নয়াদিল্লি, ১৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): সেমিকন্ডাক্টর, ফিনটেক এবং লজিস্টিকস-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের প্রতি বাড়তে থাকা আস্থার প্রতিফলন বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬-এর উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও সর্বশেষ ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনীতি ৭.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত ১৫ দিনের বিভিন্ন অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্টের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। সেখানে এজেন্টিক এআই, টোকেনাইজেশন এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক পরিষেবা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডর বর্তমানে চালু হয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পরিবহণের গতি বাড়বে, লজিস্টিকস ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে নতুন গতি আসবে।
সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রের অগ্রগতির প্রসঙ্গে মোদি বলেন, ভারতের চিপ শিল্প দ্রুত গতি পাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “ভারতের চিপ এবার বিশ্বের বাজারে যাবে।”
একইসঙ্গে একটি ক্রেডিট রেটিং সংস্থার তরফে ভারতের সার্বভৌম রেটিং উন্নীত করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই উন্নয়ন ভারতের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধির প্রতিফলন।
সম্প্রতি ভারতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মেলনে নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়াও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের প্রতি আস্থার আরেকটি দৃষ্টান্ত।
এদিকে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, ‘সেমিকন ২.০’-এর মাধ্যমে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমকে ছয়টি স্তম্ভের উপর গড়ে তোলা হবে। এগুলি হল—চিপ ডিজাইন, যন্ত্র ও উপকরণ, ফ্যাবস, অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ।
মন্ত্রী জানান, সেমিকন্ডাক্টর কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ১০৫টিরও বেশি স্টার্টআপ অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০টি সংস্থা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল তহবিল পেয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।
‘সেমিকন ২.০’-এর অধীনে অন্তত ২০০টি চিপ-ডিজাইন স্টার্টআপ ও সংস্থাকে সহায়তা করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র।
বৈষ্ণব আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ১০ বছরে ৮৫ হাজার ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ারকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও গত চার বছরে ইতিমধ্যেই ৭০ হাজার ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দেশের ৪০০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এখন ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (ইডিএ) টুল ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
–আইএএনএস
























