কলকাতা, ১৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচনে ছয়মুখী লড়াই হতে চলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নন্দীগ্রামে মূল লড়াইয়ের পাশাপাশি দ্বিতীয় স্থানে কে থাকবেন, তা নিয়েও জোরদার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। ভবানীপুরে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে ওই আসনটি ধরে রাখেন। ফলে নন্দীগ্রাম আসনটি শূন্য হওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নন্দীগ্রামে প্রার্থী করেছে হাসিরানি রথকে। তিনি শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের মা। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই ৬ মে উত্তর ২৪ পরগনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথ রথের। ফলে হাসিরানি রথের প্রার্থিতা ঘিরে প্রচারে আবেগের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
কলকাতার এক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের বক্তব্য, চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রেই বিজেপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর প্রভাবের কারণে নন্দীগ্রাম বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। হাসিরানি রথকে প্রার্থী করার ক্ষেত্রে সহানুভূতির বিষয়টিও বিজেপির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে তাঁর দাবি। তাঁর মতে, এখন প্রশ্ন হল, বিজেপি-বিরোধী প্রার্থীদের মধ্যে কেউ কতটা ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করতে পারেন।
হাসিরানি রথ ছাড়াও নন্দীগ্রামে পাঁচ প্রধান প্রার্থী রয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ‘মূল কিন্তু সংখ্যালঘু’ শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ’ শিবিরের প্রার্থী এহতেশামুল হক। এছাড়া সিপিআইয়ের শান্তি গোপাল গিরি, কংগ্রেসের মিলন প্রধান এবং অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট (এআইএসএফ)-এর মহম্মদ সাবি মিরাজ আলি খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। ভোটের ফল ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর।
দুই গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কংগ্রেস রেজিনগর কেন্দ্রে প্রার্থী না দিলে তৃণমূল নন্দীগ্রাম থেকে তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করবে। কিন্তু কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় দুই কেন্দ্রেই বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত হয়েছে।
–আইএএনএস



















