আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন এবং তাঁর ২৫ বছরের জনজীবন উপলক্ষে ত্রিপুরায় আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা এই কর্মসূচির ঘোষণা করেন। ‘জনসেবাই প্রভু সেবা’ শীর্ষক ভাবনাকে সামনে রেখে জনসেবা, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কল্যাণমূলক পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রক্তদান শিবির, পরিষেবা শিবির, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম, ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কর্মসূচি-সহ একাধিক উদ্যোগ রয়েছে।
আজ এক ভিডিও বার্তায় জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সংগঠন নিজেদের উদ্যোগে পালন করলে তাতে তাঁর আপত্তি নেই। তবে একজন কর্মরত রাজনৈতিক নেতার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে রাজ্য সরকার, সরকারি অর্থ এবং প্রশাসনিক যন্ত্র ব্যবহার করা নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে।
এই অভিযানের জন্য কত টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে, অর্থের উৎস কী এবং মাসব্যাপী কর্মসূচিতে কত টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে, তা প্রকাশ করার দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দল তাদের নেতার জন্মদিন উপলক্ষে কর্মসূচি পালন করতে পারে। কিন্তু সেই কর্মসূচিতে সরকারি অর্থ বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা উচিত নয়।
বিরোধী দলনেতা রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। অঙ্গনওয়াড়ি ও অন্যান্য প্রকল্পের কর্মীদের বিভিন্ন পাওনা পরিশোধে বিলম্ব, পেনশন সংক্রান্ত সমস্যার পাশাপাশি পুলিশ কর্মী এবং স্পেশাল পুলিশ অফিসারদের আর্থিক বিষয় নিয়ে তিনি অভিযোগ তোলেন।
গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর দাবি, বিভিন্ন কর্মসংস্থান প্রকল্পে বহু শ্রমিক প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম দিনের কাজ পেয়েছেন। পাশাপাশি রাস্তা মেরামত, সরকারি দফতরে শূন্যপদ এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিষয়ও তিনি তুলে ধরেন।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর বক্তব্য, সরকারি অর্থ ব্যয় করে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মসূচি আয়োজনের আগে রাজ্য সরকারের উচিত মানুষের এই সমস্যাগুলির সমাধান করা।
তিনি ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর আর্থিক সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য প্রকাশের দাবি জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রচারের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মসূচিতে সরকারি সম্পদ ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। এ ধরনের সরকারি অর্থে পরিচালিত কর্মসূচিকে তিনি “অবৈধ, অনৈতিক ও অনিয়মিত” বলে অভিহিত করে তা বন্ধ করার দাবি জানান।
























