আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর: রাজ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা। রবিবার উজ্জয়ন্ত মার্কেটে গ্রাসরুট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত গণেশ পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এতদিন ধরে যে নাস্তিকতার পরিবেশ ছিল, এখন আমরা আস্তিকতার পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছি।” রাজ্যে “বারো মাসে তেরো পার্বণ”-এর ঐতিহ্য বজায় রেখে বিভিন্ন পুজো-পার্বণ ঘিরে সুন্দর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গ্রাসরুট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগরতলার উজ্জয়ন্ত মার্কেটে গণেশ পুজোর উদ্বোধন করা হয়। রবিবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, বিজেপির প্রদেশ সভাপতি অভিষেক দেবরায় সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
গণেশ পুজোর উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা বলেন, রাজ্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বজায় রাখার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে পুজো-পার্বণকে কেন্দ্র করে উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যে পরিবেশ ছিল, বর্তমানে তার পরিবর্তন ঘটেছে। আমরা চাই, এতদিন ধরে যে নাস্তিকতার পরিবেশ ছিল, এখন আমরা আস্তিকতার পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুজো-পার্বণকে ঘিরে মানুষের মধ্যে নতুন উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, যারা পুজো বা ধর্মীয় বিশ্বাসে আস্থা রাখেন না, তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের বিপরীতে রাজ্যে বর্তমানে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী হয়েছে।
তিনি বলেন, “বারো মাসে তেরো পার্বণ”—এই পরিচিতির মধ্যেই ত্রিপুরার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ফুটে ওঠে। বছরের বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের সর্বত্র নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পুজো-পার্বণের আয়োজন হয়।
গণেশ চতুর্থীর সূচনাকে সামনে রেখে রাজ্যবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আজকে গণেশ চতুর্থীর দিন শুরু হচ্ছে। সেই উপলক্ষে আমি সমস্ত ত্রিপুরাবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, জীবনে নানা বাধা-বিপত্তি থাকলেও সেগুলিকে অতিক্রম করে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। তাঁর কথায়, “আমরা সবাই মিলে, যা বাধা-বিপত্তি থাকুক না কেন, সেগুলি সরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।”
রাজ্যে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার উপরও জোর দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারেন। একই সঙ্গে গণেশজির কাছে রাজ্যের সকল মানুষের মঙ্গল কামনা করেন তিনি।
এই বক্তব্যের সমর্থনে বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ রয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী দলের রাজনৈতিক দলগুলির চিন্তাভাবনা ও অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অনেক সময় সাধারণ মানুষের মধ্যেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাঁর কথায়, “উনাদের যে চিন্তাভাবনা, ওনারা কী চাইছেন, সেটা তারা নিজেরাই জানেননা।
তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বিরোধীরাও ভালো থাকুন—এই কামনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। গণেশ পুজোকে কেন্দ্র করে উজ্জয়ন্ত মার্কেট এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে পুজো উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।



















