লখনউ, ১৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সংঘাত ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতা আশার আলো দেখাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) প্রধান মায়াবতী। একইসঙ্গে ব্রিকস মুদ্রা চালুর সম্ভাবনা এবং প্যালেস্টাইন ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে জোটের অবস্থানকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার লখনউতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মায়াবতী বলেন, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে বিএসপির অবস্থান তুলে ধরা, লখনউতে পঞ্চায়েত দফতরের কর্মীদের আন্দোলনের বিষয়টি উত্থাপন করা এবং দেশজুড়ে তৃণমূল স্তরে দলের সংগঠন আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। বিশেষ করে বহুজন সম্প্রদায়ের মধ্যে দলের সমর্থনভিত্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ব্রিকস সম্মেলন প্রসঙ্গে মায়াবতী বলেন, ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধের পাশাপাশি শুল্ক সংক্রান্ত সমস্যা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও বিভিন্ন দেশের জন্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
এই অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে ব্রিকস সদস্য দেশগুলির মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ইতিবাচক দিশা দেখাতে পারে বলে মন্তব্য করেন বিএসপি প্রধান। তিনি বলেন, ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে আরও শক্তিশালী বন্ধন আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ হবে। সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে ব্রিকসের নিজস্ব মুদ্রা চালুর উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্যালেস্টাইন ইস্যুতেও ব্রিকসের অবস্থানকে স্বাগত জানান মায়াবতী। তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে দ্বিরাষ্ট্র সমাধান এবং একটি স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ সমর্থন রয়েছে।
পহেলগাম সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্রিকসের প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ভারতের অবস্থানের প্রতি এই সমর্থন যথাযথ বলেও মন্তব্য করেন বিএসপি প্রধান।
প্রতিবেশী চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে মায়াবতী বলেন, মতপার্থক্য যাতে বিরোধে পরিণত না হয় এবং দুই দেশ উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে এগিয়ে যেতে পারে—এই নীতির ফলাফল আগামী দিনে কী হয়, তা মূল্যায়ন করতে হবে।
একইসঙ্গে ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি। দুই দেশের নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব সীমান্ত সমস্যার সমাধান করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন মায়াবতী।
নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে নেতারা যখন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ এবং সদস্য দেশগুলির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, তখনই মায়াবতীর এই মন্তব্য সামনে এল।
—আইএএনএস
























