নয়াদিল্লি, ১৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময় চারটি মূল স্তম্ভ—স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে সদস্য দেশগুলির অভিন্ন ভাবনাকে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে গোষ্ঠীর প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি।
নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সমাপ্তি বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিকস আজ বিভিন্ন মহাদেশ, সংস্কৃতি এবং ভিন্ন ভিন্ন উন্নয়নের পথকে একসূত্রে যুক্ত করছে। এটি ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান শক্তি, আকর্ষণ এবং সদস্য দেশগুলির অটুট আস্থার প্রমাণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এবারের ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা ছিল—‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সদস্য দেশের সহযোগিতায় ভারত এই অভিন্ন ভাবনাকে ‘উভয়পক্ষের জন্য লাভজনক সহযোগিতা’-তে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও উত্তেজনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয় এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন দেখিয়ে দিয়েছে যে পরস্পর নির্ভরশীল বর্তমান বিশ্বে কোনও সংকটই একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাই ব্রিকসের মধ্যে স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
চ্যালেঞ্জগুলি দ্রুত শনাক্ত করা, তার জন্য প্রস্তুত থাকা এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও মোকাবিলার জন্য একটি প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন নির্দেশিকার ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সংক্রামক রোগের পূর্বাভাস ও মোকাবিলার জন্য ব্রিকস ইন্টিগ্রেটেড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আর্লি ওয়ার্নিং ডেটা ইন্টিগ্রেশন গাইডলাইনসও তৈরি করা হয়েছে।
ব্রিকস লজিস্টিকস সাপ্লাই চেইন কো-অপারেশন ফ্রেমওয়ার্ক সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিস্থাপক করে তুলতে সাহায্য করবে বলেও জানান মোদি।
উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ব্রিকস ইনকিউবেটর নেটওয়ার্ক সদস্য দেশগুলির স্টার্টআপ ও ইনকিউবেটরগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করবে। উদ্ভাবনী ও সহজে সম্প্রসারণযোগ্য সমাধানকে উৎসাহিত করতে ভারত ব্রিকস স্টার্টআপ ইনোভেশন ফান্ডের প্রস্তাব দিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ব্রিকস নেটওয়ার্ক অন ডিজিটাল এগ্রিকালচার কৃষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জিওস্পেশিয়াল প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে কৃষকদের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ‘অস্ত্রীকরণ’ অভিন্ন উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ব্রিকসের মাধ্যমে ভারত বন্ধুত্ব, অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার মানসিকতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্রিকসের সহযোগিতা যাতে শুধু সরকারগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, তার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তা, কৃষক, গবেষক, মহিলা, যুবসমাজ এবং সাধারণ নাগরিকদেরও এই সহযোগিতার সক্রিয় অংশীদার করে তোলাই ভারতের লক্ষ্য।
—আইএএনএস



















