কৈলাসহর, ১২ সেপ্টেম্বর: কৈলাসহর শহরে একের পর এক সরকারি দপ্তরে ভাঙচুর, আধিকারিকদের হেনস্থা এবং স্থানীয় চিকিৎসক ও ব্যবসায়ীদের বাড়িতে হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন রাজ্য বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা তথা কৈলাসহরের বিধায়ক বিরজিত সিনহা। তাঁর অভিযোগ, প্রকাশ্য দিবালোকে ধারাবাহিকভাবে একাধিক ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এর জেরে শহরবাসী আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
শুক্রবার কৈলাসহরে নিজের বাসভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে শহরের সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনার কথা তুলে ধরেন বিরজিত সিনহা। সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহাম্মদ বদরুজ্জামান।
বিরজিত সিনহার অভিযোগ, কৈলাসহর শহরে পূর্ত দপ্তর, পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তর, বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর, জলসম্পদ দপ্তর, বন দপ্তর সহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে ঢুকে ভাঙচুর করা হয়েছে। কোথাও কোথাও আধিকারিকদের উপরও আক্রমণ ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এত কিছুর পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, গত ১৩ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী কৈলাসহরে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠান শেষ করে কৈলাসহর ছাড়ার প্রায় আধ ঘণ্টার মধ্যেই শহরের পূর্ত দপ্তরের অফিসে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর সর্বশেষ ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে ফের পূর্ত দপ্তরের অফিসে ঢুকে জোর করে আলমারি থেকে এগ্রিমেন্টের ফাইল নিয়ে প্রকাশ্যেই পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিরজিতের দাবি, ওই সময় পূর্ত দপ্তরের অফিসের সামনেই কৈলাসহর থানার পুলিশ উপস্থিত ছিল।
এই ঘটনার পর ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিধায়ক বিষয়টি নিয়ে সরব হওয়ার পর পূর্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে কৈলাসহর থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়াও শহরের রাজীব গান্ধী মহকুমা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার দ্বৈপায়ন রায়ের গোবিন্দপুর এলাকার বাড়িতে কিছুদিন আগে রাতে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বৌলাপাশা এলাকায় চিকিৎসক দেবদুলাল চক্রবর্তীর বাড়িতেও রাতের অন্ধকারে হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন বিধায়ক।
বিগত ২০ আগস্ট প্রকাশ্য দিবালোকে শহরের বন দপ্তরের অফিসে ঢুকে মহকুমা বন আধিকারিকের কক্ষে গিয়ে তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
বিরজিত সিনহা বলেন, প্রতিটি সরকারি অফিসেই সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এবং ক্যামেরার সামনেই ঘটনাগুলি ঘটছে। তারপরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিরজিত সিনহা আরও দাবি করেন, এসব ঘটনার সঙ্গে কৈলাসহর শহর বা কৈলাসহর বিধানসভা এলাকার কেউ জড়িত নন। তাঁর অভিযোগ, শহরের পাশের চণ্ডীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কিছু যুবক ধারাবাহিকভাবে এই ঘটনাগুলি ঘটাচ্ছে। মন্ত্রী টিঙ্কু রায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন।
বিধায়কের দাবি, মন্ত্রী টিঙ্কু রায়ের ঘনিষ্ঠদের একাংশের কর্মকাণ্ডের কারণে শহরের বাসিন্দারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে রয়েছেন। ভয়ের কারণে অনেকেই মুখ খুলতে চাইছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিরজিত আরও দাবি করেন, প্রায় এক মাস আগে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক যুবক গভীর রাতে সমরুরপাড় এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে গাঁজা পাচারের সময় বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে। বর্তমানে ওই যুবক কৈলাসহর জেলে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শহরে পরপর এমন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কংগ্রেস চুপ করে বসে থাকবে না।
বিরজিত সিনহা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রশাসন যদি ঘটনাগুলির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থককে নিয়ে কৈলাসহরে অহিংস আইন অমান্য আন্দোলন করা হবে। ওই আন্দোলনের কারণে কৈলাসহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।



















