ওয়াশিংটন, ১২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থা, চাপের মুখে থাকা কূটনৈতিক জোট, বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাত এবং আমেরিকা ও চিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে বিশ্বশক্তির বদলে যাওয়া সমীকরণ বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘জানালা’ হিসেবে দেখছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলি।
‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সম্মেলন ঘিরে মূল প্রশ্ন হল—উন্নয়নশীল বিশ্বের ওপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাকি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, কে বেশি প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে উঠে আসবেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্রিকসকে দেখছে চিন। অন্যদিকে ভারত চাইছে, গোষ্ঠীটি যেন যথেষ্ট বিস্তৃত থাকে এবং সদস্য দেশগুলিকে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনও একটি শিবির বেছে নিতে বাধ্য না করে।
যুদ্ধ, উচ্চ জ্বালানি মূল্য, মার্কিন শুল্কনীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে উদ্বেগ—এই বিষয়গুলি বিভিন্ন দেশকে ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক নতুন করে পর্যালোচনা করতে বাধ্য করছে বলে জানিয়েছে সংবাদপত্রটি।
ওয়াশিংটনের স্টিমসন সেন্টারের চিন বিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক ইউন সান ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে বলেন, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা বরাবরই চিনের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ। তাই নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় জোরদার করার সুযোগ বেজিং হাতছাড়া করবে না।
প্রায় সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের এটি প্রথম ভারত সফর। ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘ সময় ধরে টানাপোড়েন চলেছে। ২০২৪ সাল থেকে ধীরে ধীরে কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে।
এদিকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে তার আগে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে চিনা প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম।
‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, ভারত ও চিনের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের অনিশ্চয়তা দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশকে নিজেদের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের চিনা স্টাডিজের অধ্যাপক শ্রীকান্ত কোন্ডাপল্লি সংবাদপত্রটিকে বলেন, ভারত নিজেদের অবস্থান নতুন করে সামঞ্জস্য করার চেষ্টা করছে।
তবে ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রেও বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ, পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিযোগিতা এখনও দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে।
অন্যদিকে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ নয়াদিল্লির জন্য ব্রিকস সম্মেলনকে একটি কঠিন ভারসাম্য রক্ষার কূটনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছে। সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতা যোগ দিচ্ছেন। সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি পুতিন ও পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক বৈঠকও করেছেন।
‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রসারিত ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশ বিশ্বব্যবস্থায় নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইলেও তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং বিদেশনীতি সংক্রান্ত স্বার্থে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এই মতপার্থক্য আরও প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে ভারত আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে অংশীদারিত্বও ক্রমশ শক্তিশালী করছে।
—আইএএনএস



















