গুয়াহাটি, ৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে অসম সরকার। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ঘাটতি চিহ্নিত করে নিয়ন্ত্রণমূলক ফাঁকফোকর দূর করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে সুরক্ষার কোনও জায়গায় ফাঁক রাখা যায় না। বিদ্যমান ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করে শিশুদের সুরক্ষা আরও মজবুত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে স্টেট চাইল্ড প্রোটেকশন পলিসি এবং জুভেনাইল জাস্টিস (জেজে) রুলস, ২০২৬ কার্যকর করা হয়েছে। শিশু সুরক্ষার জন্য আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য চাইল্ড সেফগার্ডিং অফিসার নিয়োগ এবং কর্মীদের স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা কর্মীরা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করছেন কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এছাড়া চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (সিডব্লিউসি), জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড (জেজেবি) এবং ১০টিরও বেশি আইনসিদ্ধ সংস্থার কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করা হয়েছে। এর ফলে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং জবাবদিহি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিশুদের প্রয়োজন ও নিরাপত্তা নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণের জন্য ইন্ডিভিজুয়াল কেয়ার প্ল্যান এবং হোম অডিট ব্যবস্থাও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক কোনও ফাঁক রাখা যায় না।” শিশুদের সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাগুলিকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে এই মন্তব্য করেন তিনি।
নতুন পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক যত্ন, নজরদারি এবং পুনর্বাসন—সবকটি দিককে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শিশুদের নিয়ে কাজ করা আইনসিদ্ধ সংস্থা ও কর্মীদের আরও কঠোর সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ঘাটতি দূর করে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
শিশুদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব বাড়ানোর সময়েই অসম সরকারের এই নতুন নীতি ও নিয়ম কার্যকর করা হল। বিশেষ করে শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান এবং আধিকারিকদের কাজের ওপর নজরদারি আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
(আইএএনএস)



















