রায়বরেলি (উত্তরপ্রদেশ), ৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নিজের লোকসভা কেন্দ্র উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলি সফরের শেষ দিনে বুধবার ‘জনতা দরবার’ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যার কথা শোনেন তিনি। এদিন সমাজবাদী পার্টির নেতাকর্মীরাও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে একাধিক দাবি ও সমস্যা তুলে ধরেন।
রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর এক স্থানীয় বাসিন্দা আইএএনএসকে জানান, তিনি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। স্থানীয় রাস্তার সমস্যার কথা রাহুল গান্ধীর কাছে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, লখনউ রোড থেকে আইটিআই পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। রাস্তার দু’দিকে রায়বরেলি-লখনউ হাইওয়ে ও সুলতানপুর হাইওয়ের সংযোগ রয়েছে। অথচ ওই রাস্তায় বড় বড় গর্ত রয়েছে। এলাকায় এনআইএফটি, আইটিআই এবং একটি বড় মন্দির থাকায় প্রতিদিন বহু মানুষ যাতায়াত করেন।
ওই বাসিন্দার দাবি, রাস্তা নির্মাণের জন্য দু’জন ব্যক্তি ভূমিপুজোও করেছিলেন এবং দ্রুত কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি চললেও রাস্তা এখনও তৈরি হয়নি। রাহুল গান্ধী বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
আরেক স্থানীয় মহিলা রাহুল গান্ধীর কাছে আবেদন জানান, তিনি যখনই রায়বরেলিতে আসবেন, যেন শহর ঘুরে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলি সরেজমিনে দেখেন। তাঁর কথায়, শহরের মৌলিক সমস্যাগুলি নিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। রাহুল গান্ধীও ভবিষ্যতে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এদিন সমাজবাদী পার্টির নেতাকর্মীরাও লোকসভার বিরোধী দলনেতার সঙ্গে দেখা করেন। মুলায়ম সিং যাদব যুব ব্রিগেডের রাজ্য সম্পাদক অখিলেশ মাহি রাহুল গান্ধীর কাছে ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধে শহিদ রায়বরেলির বাসিন্দা রাজেন্দ্র যাদবের নামে একটি স্মারক ও জনচত্বর তৈরির দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করলেও এখনও রায়বরেলিতে রাজেন্দ্র যাদবের নামে কোনও মূর্তি বা স্মারক তৈরি হয়নি।
অখিলেশ মাহি জানান, শহিদের সম্মানে স্মারক ও চত্বর তৈরির জন্য রাহুল গান্ধীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি। রাহুল গান্ধী দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও দাবি তাঁর।
মাহি আরও বলেন, রাহুল গান্ধী একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং তাঁর সমর্থন থাকলে এবার বিজেপির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে ইন্ডিয়া জোট পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে বলেও দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের মহিলা শাখার পদাধিকারীরাও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। জেলা মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী শৈলজা সিং রাহুল গান্ধীকে রায়বরেলিতে স্বাগত জানান। তরুণদের নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরব হওয়ার জন্য তাঁর প্রশংসাও করেন তিনি।
এদিকে, ফ্রিডম ফাইটার্স ডেসেন্ড্যান্টস অর্গানাইজেশনের সভাপতি অনিল মিশ্র রাহুল গান্ধীর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন। রাজ্যের স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহিদদের আত্মত্যাগ সংরক্ষণের পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জ শহিদ স্মারকের অসম্পূর্ণ সৌন্দর্যায়ন কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।
ব্রহ্মকুমারী সংগঠনের সদস্য জ্যোতি বহেনও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে রাখি পরিয়ে দেন। সংগঠনের এক সদস্য আইএএনএসকে জানান, প্রতিষ্ঠান ও জেলার মানুষের পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধীকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। তিনি যাতে নিয়মিত রায়বরেলিতে আসেন এবং শহরের উন্নয়ন অব্যাহত থাকে, সেই কামনাও করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে সোনা ও রুপোর ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন রাহুল গান্ধী। ব্যবসায়ীরা জানান, সোনা ও রুপোর ব্যবসায় প্রায় ৫০ শতাংশ পতন হয়েছে এবং এর ফলে তাঁদের ব্যবসা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সোনা ও রুপোর উপর বাড়তি জিএসটির বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে রাহুল গান্ধী তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
নিজের লোকসভা কেন্দ্রে সফরের শেষ দিনে বুধবার রায়বরেলির ‘বচাও ভবন’-এ আয়োজিত ‘দিশা বৈঠক’-এ আধিকারিকদের সঙ্গেও উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে আলোচনা করেন রাহুল গান্ধী।
—আইএএনএস



















