নয়াদিল্লি, ৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দিল্লির কিলোকরি এলাকায় ৫৪ বছর বয়সি মণিপুরি সংগীতশিল্পী চংথম বিক্রম সিংকে মারধরের ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরে হামলার বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। মৃত সংগীতশিল্পীর ছেলে অভিযোগ করেছেন, ৬ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি নিজের চোখে চার থেকে পাঁচজন যুবককে তাঁর বাবাকে লাথি ও ঘুষি মারতে দেখেছেন।
এফআইআরে দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, ইয়াইফাবা জানান, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে ছিলেন। সেই সময় বাইরে থেকে বাবার চিৎকার শুনে দরজা খুললে চার থেকে পাঁচজন যুবককে বাবাকে মারধর করতে দেখেন বলে অভিযোগ। তিনি চিৎকার করে সাহায্যের জন্য ডাকলে যুবকেরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তাঁদের মুখ দেখেছিলেন এবং সামনে এলে অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে পারবেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।
এরপর ইয়াইফাবা তাঁর মা জোচিয়া এবং প্রতিবেশী রাডোকে সঙ্গে নিয়ে ট্যাক্সিতে করে বাবাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে যাওয়ার পথে বিক্রম সিং তাঁর ছেলেকে জানান, তাঁকে মারধর করা যুবকেরা তাঁদের বাড়ির উল্টো দিকে থাকা একটি ধাবা থেকে এসেছিল। ওই ধাবার কাছে শব্দ ও গোলমাল নিয়ে আপত্তি জানানোয় এর আগে কয়েকজন তাঁকে হুমকি দিয়েছিল বলেও তিনি ছেলেকে জানিয়েছিলেন।
এফআইআর অনুযায়ী, হাসপাতালে যাওয়ার পথেই ট্যাক্সির মধ্যে বিক্রম সিং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাঁকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
অভিযোগকারী ইয়াইফাবা জানিয়েছেন, তাঁর বাবা পেশায় সংগীতশিল্পী ছিলেন। গত সাত-আট বছর ধরে তিনি কাজ থেকে দূরে ছিলেন এবং বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকতেন। তাঁদের পরিবার মূলত মণিপুরের ইম্ফলের বাসিন্দা। ইয়াইফাবা নিজে নয়ডার এশিয়ান ল স্কুলে বিএ এলএলবি পড়ছেন বলেও এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে ইয়াইফাবা দাবি করেছেন, হামলার কারণেই তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে। তিনি সমস্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। হামলায় জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা যুবকদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাঁদের সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।
–আইএএনএস



















