ভোপাল, ৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): স্টাইপেন্ড বৃদ্ধির দাবিতে এমবিবিএস ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলন মঙ্গলবার আরও তীব্র হয়েছে। তাঁদের সমর্থনে রেসিডেন্ট চিকিৎসক এবং জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (জেডিএ) আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় মধ্যপ্রদেশের সরকারি হাসপাতালগুলিতে বহির্বিভাগ বা ওপিডি পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। তবে জরুরি পরিষেবা চালু রয়েছে।
সোমবার ভোপালে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বাসভবনের দিকে মিছিল করে যাওয়ার সময় পুলিশ লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনরত ইন্টার্নরা। এরপরই তাঁরা ওপিডি পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
ভোপালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সোমবার রাতভর কামলা পার্কে অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যান। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাওয়া রাস্তাগুলিতে ব্যারিকেড তৈরি করে নিরাপত্তা বাড়ায় পুলিশ।
ফায়মা ভারত-র জাতীয় মুখপাত্র ডা. আকাশ সোনি আইএএনএসকে জানান, ইন্টার্নদের দাবিদাওয়া নিয়ে গত ২৭ জুলাই উপমুখ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সংগঠনের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডা. সোনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়। একই ধরনের সমস্যা উত্তরপ্রদেশ ও ছত্তীসগড়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আন্দোলনের প্রভাব ভোপালের হামিদিয়া হাসপাতালেও স্পষ্ট দেখা যায়। সেখানে নিয়মিত ওপিডি পরিষেবা বন্ধ থাকায় রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সমস্যায় পড়তে হয়। বহু রোগী পরামর্শ নেওয়া এবং বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে এসে সমস্যার মুখে পড়েন।
পুলিশের কথিত লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহারের প্রতিবাদে আন্দোলনে যোগ দেয় মধ্যপ্রদেশের জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনও। জেডিএ-র মধ্যপ্রদেশ শাখার সহ-সভাপতি অনুরাগ ভারতী জানান, জেলা কালেক্টর এবং সিএমই-র সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
ইন্টার্নদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে স্টাইপেন্ড বৃদ্ধি এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় কথিত বলপ্রয়োগের জন্য দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গান্ধী মেডিক্যাল কলেজের ডিন কবিতা সিংও জলকামান ব্যবহারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, জলকামান ব্যবহার করা ঠিক হয়নি এবং তিনিও বিষয়টি পছন্দ করেননি।
কবিতা সিং জানান, তিনি ইন্টার্নদের উপমুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভস্থল ছাড়তে অস্বীকার করেন এবং উপমুখ্যমন্ত্রীকে সেখানেই এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলার দাবি জানান।
এদিকে, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা উমং সিংহার পুলিশের কথিত লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহারের নিন্দা করে বিজেপি সরকারকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।



















