ইম্ফল, ৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মণিপুরে ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি) তৈরির ক্ষেত্রে ১৯৫১ সালকে ভিত্তিবর্ষ হিসেবে ধরা হবে এবং এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় এ কথা জানিয়েছেন মণিপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কনথৌজাম গোবিন্দাস সিং।
বিধানসভায় বিরোধী কংগ্রেস বিধায়ক কেইশাম মেঘচন্দ্র সিংয়ের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মণিপুরে এনআরসি আপডেট করার বিষয় এবং ১৯৫১ সালের এনআরসি-র মূল নথি সংরক্ষণের প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, ১৯৫১ সালের এনআরসি-র মূল নথিগুলি বর্তমানে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
গোবিন্দাস সিং বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়া রাজ্য সরকার এককভাবে এনআরসি বাস্তবায়ন করতে পারে না। তিনি জানান, ২০২২ সালের ৫ আগস্ট বিধানসভায় গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী মণিপুর স্টেট পপুলেশন কমিশন ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এনআরসি-র বিষয়টি কোনওভাবেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। অসমে এনআরসি কার্যকর করা হলেও এখনও সেটি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মণিপুরে এনআরসি চালুর জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১ মার্চ বিধানসভার প্রস্তাব অনুযায়ী রাজ্য সরকার ফের কেন্দ্রের কাছে বিষয়টি নিয়ে আবেদন জানিয়েছিল। এরপর ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিধানসভা সর্বসম্মতভাবে আগের সিদ্ধান্তগুলিকে পুনরায় অনুমোদন করে। অসমের মতো পরিস্থিতি যাতে মণিপুরে তৈরি না হয়, সে কারণে কেন্দ্রের সঙ্গে বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, ২ সেপ্টেম্বর মণিপুর বিধানসভার সর্বশেষ প্রস্তাবটি আসে ইম্ফল উপত্যকার পাঁচ জেলা—ইম্ফল ইস্ট, ইম্ফল ওয়েস্ট, থৌবাল, বিষ্ণুপুর এবং কাকচিংয়ে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের ব্যাপক আন্দোলনের মধ্যে। ২০২৭ সালের জনগণনা শুরু হওয়ার আগে মণিপুরে এনআরসি আপডেট করার দাবিতে গত ১৭ আগস্ট থেকে ন্যায্য ও সুষ্ঠু সীমানা নির্ধারণের জন্য প্রচারাভিযান (সিজেএফডি)-সহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
২০২৭ সালের জনগণনা নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে, ৩১ আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকার মণিপুরে জনগণনা-২০২৭-এর কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা করে। এনআরসি আপডেট না করে জনগণনা পরিচালনা করা যাবে না—এই দাবিতে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের লাগাতার বিক্ষোভের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে মণিপুরের কুকি-জো উপজাতি সম্প্রদায়ের শীর্ষ সংগঠন কুকি-জো কাউন্সিল (কেজেডসি) জনগণনার আগে এনআরসি আপডেট করার দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছে। কেজেডসি-র মুখপাত্র গিনজা ভুয়ালজং বলেন, কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যের জন্য আলাদাভাবে এনআরসি পরিচালনার সাংবিধানিক বিধান নেই।
তিনি বলেন, এনআরসি একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রক্রিয়া। ১৯৮৫ সালের অসম চুক্তির ভিত্তিতে অসমে এনআরসি পরিচালিত হয়েছিল। তাই শুধুমাত্র মণিপুরে এনআরসি চালানোর যে কোনও উদ্যোগ বৈষম্যমূলক এবং অসাংবিধানিক বলে দাবি করেন তিনি।
________

















