কাঠমান্ডু, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নেপালে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩৪৪ হয়েছে। ভোতে কোশি নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া মৃতদেহ বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্ধার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপাল পুলিশের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভোতে কোশি নদী থেকে মোট ১,৩৪৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪,৮৮৬ জনের এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে ৬০৬ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী উপত্যকা জুড়ে ভয়াবহ বন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকায় জীবন ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নিখোঁজদের একটি বড় অংশ ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী করিডরের ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলি সুড়ঙ্গগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে। শুক্রবার রাসুয়া জেলার ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ শনাক্তকরণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজও চলছে। নিরাপত্তা বাহিনী বন্যাকবলিত এলাকাগুলিতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান আরও তীব্র করেছে। এখনও পর্যন্ত ৮,৯৬২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১,৫৫২ জন বিদেশি নাগরিক।
উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলির পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজও চলছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১,২৬০ জন মৃতের নমুনা এবং তাঁদের ১,০১২ জন আত্মীয়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,২৭২।
বন্যা মোকাবিলায় নেপাল পুলিশ ৭,৯১২ জন সদস্যকে উদ্ধার, তল্লাশি ও ত্রাণকাজে মোতায়েন করেছে। দুর্যোগে পুলিশের ৬৫ জন সদস্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ২৫ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যায় সড়ক, সেতু, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন পরিকাঠামো এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণপর্ব শেষ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির পুনর্গঠন ও পরিকাঠামো পুনরুদ্ধারে নেপাল আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে।
— আইএএনএস


















