কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলা ভাষার সিলেবাস বিকৃত করেছিল বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে পাঠ্যক্রমে ভাষার বিকৃতি ঘটানো হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যাভারতীর রাজ্যস্তরের সহযোগী সংগঠন বিবেকানন্দ বিদ্যা বিকাশ পরিষদের একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মাকে ‘মা’ না বলে ‘আম্মা’ এবং আকাশকে ‘আকাশ’ না বলে ‘আসমান’ বলা হয়েছিল। পরিকল্পিতভাবে বাংলা ভাষাকে বিকৃত করা হয়েছিল। এমনভাবে সিলেবাস তৈরি করা হয়েছিল, যাতে শিক্ষা ব্যবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বা স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা ও আদর্শ উপেক্ষিত থাকে। ভাষার এই বিকৃতির মাধ্যমে শিশুদের মনে বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল।”
অধিকারী অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রথমে বামফ্রন্ট সরকার এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁর কথায়, “৩৪ বছর ধরে কমিউনিস্টরা বাংলা ভাষার প্রসার ও প্রচারে বাধা দিয়েছিল। প্রাথমিক স্তরে ইংরেজি শিক্ষাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপর তৃণমূল সরকারের আমলে স্কুলের সিলেবাসে তোষণের রাজনীতি ঢুকে পড়ে। বাংলা ভাষাকে বিকৃত করা হয়। তৃণমূল কংগ্রেস যে শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু করেছিল, সেখানে রাষ্ট্রনায়কসুলভ ভাবনা ও দেশপ্রেম ক্রমশ হারিয়ে যেতে শুরু করে।”
সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের ছোট গাড়ি প্রকল্পের বিরুদ্ধে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে হওয়া জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনকে স্কুলের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, হুগলির সিঙ্গুরে টাটাদের প্রকল্প সরিয়ে দেওয়ার আন্দোলনের বিস্তারিত বিবরণ পাঠ্যক্রমে রাখা হলেও ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনী সেখানে ছিল না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্কুলের সিলেবাসে তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উল্লেখ থাকলেও রাজ্যের বহু মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
অধিকারীর বক্তব্য, “এই ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা যদি চলতে থাকত, তাহলে বাংলার সংস্কার, দেশপ্রেম, রাজ্যচেতনা ও জাতীয়তাবোধ হারিয়ে যেত।”
—আইএএনএস



















