লখনউ, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রাক্তন এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রকে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রথম মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ নিয়ে কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করল বিজেপি। বৃহস্পতিবার বিজেপি অভিযোগ করে, আলভির মন্তব্যের মাধ্যমে কংগ্রেসের ‘দিমাগি নকশাল’ মানসিকতা প্রকাশ্যে এসেছে।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র ও রাজ্যসভা সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, সামরিক অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস বারবার ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে অপমান করেছে। লখনউয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সিইও হিসেবে প্রাক্তন এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রের নিয়োগ নিয়ে কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভির লজ্জাজনক মন্তব্য কংগ্রেসের ‘দিমাগি নকশাল’ চরিত্র গোটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। সেনাবাহিনীকে অপমান করাই যে ‘দিমাগি নকশাল’ কংগ্রেসের পরিচয়, তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।”
এর আগে রশিদ আলভি প্রাক্তন বায়ুসেনা আধিকারিক জিতেন্দ্র মিশ্রের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি ছিল, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সঙ্গে মিশ্রের ভূমিকার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে একটি ‘গোপন সত্য’ থাকতে পারে। এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
ত্রিবেদী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভগবান রাম, অযোধ্যা এবং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অভিযান নিয়ে অতীতে করা বিভিন্ন মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, “এরাই সেই মানুষ, যারা সবসময় ভগবান রাম ও অযোধ্যার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আবারও অযোধ্যা নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করা হয়েছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, কংগ্রেসের নেতারা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং দলের নেতা সন্দীপ দীক্ষিত একসময় সেনাপ্রধানকে ‘সড়কছাপ গুন্ডা’ বলেছিলেন।
বিজেপি নেতা আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের রাজনৈতিক বক্তব্যে ক্রমশ ‘দিমাগি নকশাল’ ধরনের মানসিকতা দেখা যাচ্ছে এবং রশিদ আলভির সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই ধারারই অংশ।
মহম্মদ গজনি, মহম্মদ ঘোরি ও বাবরের ভারত আক্রমণ নিয়েও কংগ্রেসের বক্তব্যকে নিশানা করেন ত্রিবেদী। তিনি দাবি করেন, “গজনি, ঘোরি ও বাবর মন্দির লুট করতে আসেননি। এটি বামপন্থীদের ছড়ানো ভুল ধারণা, যা আরবান নকশাল ও ‘দিমাগি নকশাল’রা প্রচার করতে চায়। তাঁরা মন্দির ধ্বংস ও মূর্তি ভাঙতে এসেছিলেন।”
প্রসঙ্গত, একদিন আগেই শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট প্রাক্তন এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রকে প্রথম সিইও হিসেবে নিয়োগ করে। মিশ্রের হাতে রাম মন্দিরের প্রশাসন ও পরিচালনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মন্দির পরিচালনা, নিরাপত্তা, কর্মী প্রশাসন, ভক্তদের সুবিধা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়। তাঁর নিয়োগকে কেন্দ্র করে রশিদ আলভির মন্তব্যের পরই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


















