নয়াদিল্লি, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): আইনের শাসন, আলোচনা ও কূটনীতিতে বিশ্বাস করে ভারত ও বেলজিয়াম। ইউক্রেন থেকে পশ্চিম এশিয়া—চলমান সংঘাতগুলির দ্রুত সমাধান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমস্ত প্রচেষ্টাকে দুই দেশ সমর্থন করে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভারের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারত-বেলজিয়াম সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি হল দুই দেশের মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। তিনি জানান, দুই দেশ স্টার্টআপগুলির মধ্যে সংযোগ বাড়াচ্ছে এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি চুক্তিতেও পৌঁছেছে। শীঘ্রই ভারত ও বেলজিয়াম অভিবাসন ও গতিশীলতা অংশীদারিত্ব চুক্তিও সম্পন্ন করবে।
মোদি বলেন, “ভারত ও বেলজিয়াম উভয়েই আইনের শাসন, আলোচনা ও কূটনীতিতে বিশ্বাস করে। ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া—আমরা সংঘাতের দ্রুত সমাধান ও শান্তির জন্য সমস্ত প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা আমাদের যৌথ অঙ্গীকার।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে ভারত-বেলজিয়াম অংশীদারিত্বে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পরিধি প্রচলিত ক্ষেত্র ছাড়িয়ে প্রতিরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির মতো কৌশলগত ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত হয়েছে। আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, বিশেষ করে জোরাওয়ার ট্যাঙ্ক নিয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্রিন অ্যামোনিয়া প্রকল্প গড়ে তুলতেও সহযোগিতা করছে ভারত ও বেলজিয়াম।
ভারত ও বেলজিয়ামের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন মোদি। তিনি বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বেলজিয়ামে হাজার হাজার ভারতীয় সেনার সাহস ও আত্মত্যাগ দুই দেশের অভিন্ন স্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বাজার অর্থনীতি এবং শক্তিশালী জন-সম্পর্ক দুই দেশকে স্বাভাবিক অংশীদারে পরিণত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে ভারত-বেলজিয়াম সম্পর্কের ‘গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, দুই দেশ সামরিক আদান-প্রদান এবং প্রশিক্ষণ সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই দেশের সরকার ও প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে হওয়া চুক্তিগুলি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উন্নয়ন ও যৌথ উৎপাদনের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং অপরাধ দমনে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সহযোগিতাও আরও জোরদার করা হবে।
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খলকে ভারত ও বেলজিয়ামের অভিন্ন অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মোদি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতাপত্র দুই দেশের স্থায়িত্বমূলক সহযোগিতায় নতুন গতি আনবে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের প্রক্রিয়াকরণ ও পুনর্ব্যবহার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে বেলজিয়ামের দক্ষতা এবং ভারতের বৃহৎ পরিসরের সক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক বলেও জানান তিনি। এই লক্ষ্যে বেলজিয়ামের আইএমইসি ইনস্টিটিউটকে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য দুই দেশ কাজ করবে।
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, প্রবৃদ্ধি এবং অভিন্ন সমৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং এফটিএ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে বলে জানান তিনি।
এই সম্ভাবনাগুলিকে বাস্তব ফলাফলে পরিণত করতে ভারত বেলজিয়ামের সংস্থাগুলির জন্য দেশে ‘ইনভেস্টমেন্ট ফাস্ট-ট্র্যাক মেকানিজম’ চালু করেছে। পাশাপাশি ভারত-বেলজিয়াম বিজনেস ফোরামকে নিয়মিত ব্যবস্থায় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের আর্থিক, ফিনটেক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয়ও বাড়ানো হবে। আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।



















