নয়াদিল্লি, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত ও বেলজিয়ামের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমস্ত দিক নিয়ে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার। বৈঠকে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ ও বহুমুখী অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন দুই নেতা। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন তাঁরা।
বিদেশ মন্ত্রক এক্স-এ জানায়, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, সেমিকন্ডাক্টর, ফিনটেক, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ এবং শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মত বিনিময় করে ভারত-বেলজিয়ামের ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন তাঁরা।
বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অপরাধ দমন এবং কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতাপত্র (এমওইউ) বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ও বার্ট ডি ওয়েভার। আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রাতেও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি একটি বিজনেস ফোরাম, ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম এবং কনস্যুলার ডায়ালগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পিকে মিশ্র, বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিভাগের সচিব সিবি জর্জ-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবারই পরবর্তী একটি অনুষ্ঠানে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)-র একটি ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য রাখবেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)-র প্রেক্ষাপটে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে কর্মসূচি শেষ করে শুক্রবার মুম্বই যাবেন ডি ওয়েভার। সেখানে হিরে শিল্প, বন্দর এবং লজিস্টিকস ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতে এটাই বার্ট ডি ওয়েভারের প্রথম সফর। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার তিনি ভারতে পৌঁছন। একইসঙ্গে প্রায় দুই দশক পর কোনও বেলজিয়াম প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হল। ফলে এই সফরকে ভারত-বেলজিয়াম সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৫ সালের মার্চে প্রিন্সেস অ্যাস্ট্রিডের নেতৃত্বে বেলজিয়ামের অর্থনৈতিক মিশনের সফরের ধারাবাহিকতায় ডি ওয়েভারের এই ভারত সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্কসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত-বেলজিয়াম অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ভারত-ইইউ এবং ভারত-ইউরোপ সম্পর্ককেও আরও গভীর করার ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


















