কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর দেহ তড়িঘড়ি দাহ করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পলাতক পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন প্রধান সোমনাথ দে-কে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলায় সোমনাথ দে তৃতীয় অভিযুক্ত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি দল সোমনাথ দে-কে হেফাজতে নিয়েছে। এদিনই ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হবে। এরপর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তাঁকে পেশ করা হবে। মামলায় সরকারি আইনজীবী তাঁর পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানাবেন।
দেহ তড়িঘড়ি দাহ করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এর আগে আরও দুই অভিযুক্ত—পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং নিহত চিকিৎসকের পরিবারের পানিহাটির প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়—গ্রেফতার হয়েছেন। দু’জনই বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করে নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-কে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করার পর সোমনাথ দে আত্মগোপন করেন। গত মাসে ওড়িশা থেকে প্রথমে নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়। পরে কলকাতার চিনার পার্ক এলাকার একটি বাড়ি থেকে সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়। তবে সোমনাথ দে এতদিন পলাতক ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বেঙ্গালুরুতে তাঁর সন্ধান মেলে।
গত ৮ আগস্ট আরজি কর ধর্ষণ-খুনের ঘটনার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেহ তড়িঘড়ি দাহ করার অভিযোগ নিয়ে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনে নতুন করে তদন্তের ঘোষণা করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পানিহাটির একটি শ্মশানে তড়িঘড়ি শেষকৃত্য সম্পন্ন করে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের সম্ভাবনা নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এরপর নিহত চিকিৎসকের বাবার দায়ের করা নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের খড়দহ থানায় নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র নাম উল্লেখ করে নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়। প্রাথমিকভাবে তিন অভিযুক্তই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট সকালে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে মহিলা চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, আগের রাতে তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। এরপর অভিযোগ ওঠে, সমস্ত নিয়ম-প্রোটোকল উপেক্ষা করে তাঁর দেহ দ্রুত পানিহাটির একটি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে তড়িঘড়ি দাহ করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
—আইএএনএস



















