ইম্ফল, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): জাতিগত সংঘর্ষ শুরুর তিন বছরেরও বেশি সময় পর বুধবার প্রথমবার মণিপুর বিধানসভায় সশরীরে উপস্থিত হলেন কুকি-জো সম্প্রদায়ের দুই বিধায়ক। ২০২৩ সালের ৩ মে রাজ্যে জাতিগত হিংসা ছড়িয়ে পড়ার পর এই প্রথম পাহাড়ি এলাকার কুকি-জো সম্প্রদায়ের বিধায়করা ইম্ফলে বিধানসভার অধিবেশনে সরাসরি অংশ নিলেন।
বুধবার মণিপুরের ১২তম বিধানসভার অষ্টম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম দিনেই সাইতু বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হাওখোলেট কিপগেন এবং সাইকুল বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কিমনেও হাওকিপ হ্যাংশিং বিধানসভায় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
তিন বছরেরও বেশি সময় পর বিধানসভায় ফিরে হাওখোলেট কিপগেন বলেন, দীর্ঘ সময় পর অধিবেশনে যোগ দিতে পেরে তিনি খুশি।
তবে উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেন ভার্চুয়াল মাধ্যমে অধিবেশনে অংশ নেন।
এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যুমনাম খেমচাঁদ সিং। তিনি এটিকে রাজ্যে ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে এটি একটি ভালো লক্ষণ এবং এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই।”
খেমচাঁদ সিং বলেন, সমাজের সব অংশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মণিপুরকে শান্তি ও পুনর্মিলনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থার ঘাটতি কমানো এবং সমস্যাগুলির সমাধানে রাজ্য সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই এই অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সহনশীলতা, পুনর্মিলন, অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনা এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তাঁর সরকারের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ সিংয়ের নেতৃত্বে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর কয়েকজন কুকি-জো বিধায়ক আগের বিধানসভা অধিবেশনগুলিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশ নিয়েছিলেন।
তবে এবার অধিবেশন শুরুর আগে কুকি-জো সম্প্রদায়ের শীর্ষ সংগঠন কুকি ইনপি মণিপুর বিধায়কদের ইম্ফলে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ৩১ আগস্ট জারি করা ওই নির্দেশে বলা হয়েছিল, কুকি-জো জনগোষ্ঠীর ‘পৃথক প্রশাসন’-এর দাবি নিয়ে রাজনৈতিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিধায়কদের অষ্টম অধিবেশনে যোগ দিতে ইম্ফলে যাওয়া উচিত নয়।
কিম জানিয়েছিল, কুকি-জো জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়ে মৌলিক রাজনৈতিক প্রশ্নের সমাধান না হওয়া অবস্থায় বিধায়কদের বিধানসভায় অংশগ্রহণ সংগঠনের সম্মিলিত রাজনৈতিক অবস্থান ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।
সংগঠনটির বক্তব্য, রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া ‘স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে’ ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। কুকি-জো বিধায়কদের জনগণের রাজনৈতিক অবস্থান ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং সংহতি বজায় রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।
কুকি-জো সংগঠনগুলি মণিপুরের উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিধানসভা-সহ পৃথক রাজনৈতিক প্রশাসন তথা পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবি জানিয়ে আসছে। ৬০ সদস্যের মণিপুর বিধানসভায় কুকি-জো সম্প্রদায়ের ১০ জন বিধায়ক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেন এবং বিজেপির আরও ছয় বিধায়ক।
২০২৩ সালের ৩ মে মেইতেই ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে কুকি-জো সম্প্রদায়ের অধিকাংশ বিধায়ক বিধানসভা অধিবেশন বয়কট করে আসছিলেন। একইসঙ্গে ইম্ফল উপত্যকায় তাঁদের যাতায়াতও অত্যন্ত সীমিত ছিল।



















