কলকাতা, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিলেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার মধ্য কলকাতায় ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের মূল শিবিরকে শুক্রবার কেন্দ্রীয় কলকাতায় টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশ করার জন্য শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।
তবে অভিযোগ ওঠে, আদালতের আরোপ করা একাধিক শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিশেষ করে সমাবেশকে একটি লেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং দ্বিতীয় লেনটি যান চলাচলের জন্য খোলা রাখার নির্দেশ মানা হয়নি বলে অভিযোগ।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে।
তিনি বলেন, “আদালত স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিল যে দু’টি লেনের মধ্যে একটি লেন যান চলাচলের জন্য খোলা রাখতে হবে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সেখানে লোকজন জড়ো করে দু’টি লেনই অবরুদ্ধ করেছেন। আমি পুলিশকে এই বিষয়ে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছি। কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার জন্যও পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি। বিষয়টি এত সহজে ছেড়ে দেওয়া হবে না।”
তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের নেতা তথা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার আনুষ্ঠানিক বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগকে সমর্থন করেছেন।
ঋতব্রত অভিযোগ করেন, সমাবেশে সর্বাধিক কতজন অংশ নিতে পারবেন এবং সমাবেশ একটি লেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে—এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল। তাঁর দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে একাংশের সমর্থককে দুই লেনের মাঝের ব্যারিকেড ভেঙে গোটা রাস্তা দখল করতে উৎসাহিত করতে দেখা গিয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, “এই ধরনের মানসিকতা সহজে তাঁর ডিএনএ থেকে বের করা যায় না।”
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে শুক্রবার বিকেলে টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বর্তমান বিজেপি-শাসিত রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত বাড়াবাড়িই আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসকে ফের ক্ষমতায় ফিরতে সাহায্য করবে।
তিনি বলেন, “সাধারণ বিজেপি সমর্থকরাই খুব শীঘ্রই নিজেদের দলের নেতৃত্বকে শিক্ষা দেবেন। খুব শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরবে।”
—আইএএনএস



















