মুম্বই, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): মুম্বইয়ে একটি মাদক পাচারচক্রের সন্ধান পেয়ে ৫৪৭ গ্রাম কোকেন/মেথাকোয়ালোন উদ্ধার করেছে ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই)-এর মুম্বই জোনাল ইউনিট। মীরা রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে কেনিয়ার এক মহিলা ও নাইজেরিয়ার এক নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শনিবার ডিআরআই জানিয়েছে।
নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিআরআই আধিকারিকরা জানতে পারেন, কেনিয়ার এক মহিলা বাসে ইন্দোর থেকে মুম্বই আসছেন এবং তাঁর কাছে থাকা মাদকদ্রব্য নাইজেরিয়ার এক নাগরিকের হাতে তুলে দেওয়ার কথা। এরপর ওই মহিলার গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু করেন তদন্তকারীরা।
ডিআরআই-এর দাবি, মীরা রোডে ওই কেনিয়ার মহিলাকে আটক করা হয়। একই সময়ে সন্দেহভাজন মাদকের চালান নিতে সেখানে আসা নাইজেরিয়ার এক নাগরিককেও আটক করেন আধিকারিকরা।
কেনিয়ার ওই মহিলার ব্যাগ তল্লাশি করে ‘এলভি’ চিহ্নিত দুটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেট দুটির ভিতরে সাদা স্ফটিকজাতীয় পদার্থ ছিল, যার মোট ওজন ৫৪৭ গ্রাম। এনডিপিএস ফিল্ড-টেস্টিং কিটের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হলে পদার্থটি কোকেন/মেথাকোয়ালোন হিসেবে পজিটিভ আসে বলে ডিআরআই জানিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দু’জনকেই ১৯৮৫ সালের নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (এনডিপিএস) আইনের বিভিন্ন ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও কোনও ব্যক্তি বা বড়সড় মাদক পাচারচক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ডিআরআই জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই ধরনের অভিযান মাদক ও সাইকোট্রপিক পদার্থের অবৈধ পাচার রুখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংগঠিত মাদক পাচারচক্র চিহ্নিত করে তাদের কার্যকলাপ বন্ধ করাই এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
মাদকাসক্তি ও অবৈধ মাদক পাচারের বিরুদ্ধে সরকারের বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবেও এই অভিযানকে দেখছে ডিআরআই। সংস্থার বক্তব্য, ধারাবাহিক নজরদারি ও আইনানুগ পদক্ষেপের মাধ্যমে মাদকের অবৈধ সরবরাহ ও সঞ্চালন কমিয়ে ‘নেশামুক্ত ভারত অভিযান’-এর লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা এখন উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস, কোথায় তা পাঠানোর কথা ছিল এবং এই দুই বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত এগোলে এ বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।



















