নিউইয়র্ক, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্য শোনার জন্য শনিবার স্থানীয় সময় নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজিত ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ অনুষ্ঠানে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে। আয়োজকদের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯টি অঙ্গরাজ্যের ৮৫টি শহর থেকে মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় শুরু হওয়ার কথা। অনুষ্ঠানের মুখপাত্র প্রিয়া সামন্ত জানান, ২০০টিরও বেশি সংগঠন এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
প্রিয়া সামন্ত বলেন, এই অনুষ্ঠান ভারতীয় দর্শনের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ ‘সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার’—এই ভাবনাকে উদযাপন করবে। বিভিন্ন মত ও বিশ্বাসের পার্থক্য থাকলেও শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস করা সম্ভব—এই বার্তাই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি আন্তঃধর্মীয় সমাবেশ, যেখানে সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক নানা কর্মসূচি থাকবে। রক্ষাবন্ধনের সপ্তাহান্তে এই অনুষ্ঠান হওয়ায় উৎসবটির ‘সুরক্ষা, যত্ন ও পারস্পরিক বন্ধন’-এর প্রতীকী তাৎপর্যও তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন তরুণদের অ্যাপেলা পরিবেশনা এবং ধর্মীয় স্তোত্র পাঠেরও আয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানের জন্য নিবন্ধনে ব্যাপক সাড়া মিলেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় বর্তমানে নিবন্ধন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে শুরুতে এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিল। যারা সরাসরি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারবেন না, তারা অনলাইনে অনুষ্ঠানটি দেখতে পারবেন।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, সংঘাত ও বিভাজনে পরিপূর্ণ বর্তমান বিশ্বে ঐক্য, শান্তি ও সম্প্রীতির এই বার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক অবিনাশ গুপ্ত বলেন, প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির ‘বিশ্ব এক পরিবার’—এই চিরন্তন দর্শনকেই অনুষ্ঠানটি সামনে আনছে।
ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের স্বেচ্ছাসেবক তথা অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত অঙ্কুর বৈদ্য বৃহত্তর মার্কিন ও নিউইয়র্কের নাগরিকদের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, সকলের অন্তর্ভুক্তি ও কল্যাণের বার্তাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠান ঘিরে বিরোধিতার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। প্রিয়া সামন্ত বলেন, মুক্ত সমাজে প্রত্যেকের নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা সম্ভব। তাঁর বক্তব্য, একসঙ্গে বসা মানে মতের সমর্থন নয়, আবার কারও কথা শোনা মানেই তার সঙ্গে একমত হওয়া নয়। ‘ওয়াননেস’ বা একাত্মতার অর্থ অভিন্নতা নয়; বরং মতপার্থক্য বজায় রেখেও একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা।
১৯২৫ সালে নাগপুরে প্রতিষ্ঠিত আরএসএস বর্তমানে প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর উদযাপন করছে। সংগঠনটি নিজেকে স্বেচ্ছাসেবাভিত্তিক একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে, যার মূল লক্ষ্য চরিত্রগঠন, সমাজসেবা ও জাতীয় উন্নয়ন। মোহন ভাগবত ২০০৯ সাল থেকে আরএসএস-এর সরসংঘচালক পদে রয়েছেন।
ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের এই অনুষ্ঠানটি তাঁর মার্কিন সফরের অন্যতম কর্মসূচি। এর মাধ্যমে ভারতীয় দর্শনের ‘সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার’ ধারণাটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
(আইএএনএস)



















