দেরাদুন, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): নেপালের ভোতে কোশি নদীতে গত ২৬ আগস্ট হড়পা বানের পর থেকে বেশ কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় থাকা বেশ কয়েকজন তীর্থযাত্রীও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। দেরাদুনের স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে এ সংক্রান্ত জরুরি ফোন পেয়েছে। ২৮ আগস্ট রাতে এই তথ্য সংকলন করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এসইওসি-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, একাধিক ব্যক্তি হেল্পলাইনে ফোন করে জানিয়েছেন, তাঁদের আত্মীয় বা পরিচিতরা নেপালে হড়পা বানের পর থেকে যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপালের পথ ব্যবহার করেছিলেন।
ঘরসুলার বাসিন্দা পঞ্চাল ধামি জানান, তাঁর বোন মীনা গুপ্ত, যিনি মার্কিন নাগরিক এবং নেপালের গিরং ইমিগ্রেশন সেন্টার বা উষা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত, নিখোঁজ রয়েছেন। মুম্বইয়ের রাহুল পুরোহিত জানান, তাঁর দুই বন্ধু জিগনেশ মার্চেন্ট ও তেজল মার্চেন্ট, দুজনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা, লাসা-তিব্বত রুট হয়ে কৈলাস মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। তাঁদেরও এখনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
হরিদ্বারের অঙ্কিত শর্মা জানান, তাঁর ম্যানেজারের মামার দুই আত্মীয় রামরমন ও এন.আর.এস. রমন, দুজনেই মুম্বইয়ের বাসিন্দা, নেপালের একটি ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে যাত্রা করেছিলেন। বন্যার পর থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘরসুলার রবি রঞ্জন জানান, মুম্বইয়ের মীনা কুলকার্নি, যিনি এক ম্যানেজারের বোন, নেপালের তেমুর সীমান্তের কাছে নিখোঁজ হয়েছেন।
গুরগাঁওয়ের নিধি শর্মা জানান, তাঁর এক বন্ধুর স্বামী পঙ্কজ নাথ, যিনি লন্ডনে বসবাসকারী এক আইএএস আধিকারিক, বন্যাকবলিত এলাকায় নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া উত্তরাখণ্ডের পুলিশ মহাপরিচালকের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কানাডার বাসিন্দা মোহিত কোদিয়ালও নেপাল হয়ে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন এবং বর্তমানে তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
এসইওসি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সমস্ত তথ্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি উত্তরাখণ্ড সরকারের শীর্ষ আধিকারিক, জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকেও রিপোর্টের প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে। নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক স্তরে চেষ্টা চলছে।
________



















