কলকাতা, ২৮ আগস্ট (আইএএনএস): যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উৎকর্ষের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রথমে বামফ্রন্ট এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেস ‘দেশবিরোধী মানসিকতা’ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার রাখিবন্ধন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের বিরোধিতার পরিবেশ তৈরি করেছিল ৩৪ বছর ধরে রাজ্য শাসন করা বামপন্থীরা। তাঁর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের শাসনেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।
তিনি বলেন, প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছর শাসন করা কমিউনিস্টরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী অনুষ্ঠান করার বিরুদ্ধে একটি মানসিকতা তৈরি করেছিলেন। এর ফলে ক্যাম্পাসে দেশবিরোধী মানসিকতার জন্ম হয়। এরপর রাজ্যে একটি ইসলামপন্থী শক্তি ক্ষমতায় আসে, যাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাংলায় উর্দুকে দ্বিতীয় সরকারি ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এই দুই শক্তিই রাজ্যে জাতীয়তাবাদবিরোধী মানসিকতা তৈরির জন্য দায়ী।
অনুষ্ঠানে ১০ হাজার মানুষের কণ্ঠে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গান পরিবেশিত হয়। সেই প্রসঙ্গেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠা ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীসের স্বাধীনতা চাইছেন? বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাদক সেবনের স্বাধীনতা চান? ভারতীয় সেনার জওয়ানরা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ হারালে এই গোষ্ঠীগুলি কোনও প্রতিবাদ মিছিল করে না। অথচ অপারেশন সিঁদুরের পর তারাই শান্তির মিছিল করে।
‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ ধরনের স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদেরও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী মাসুদ আজহারের পরিবারের প্রায় সকলকে হত্যা করেছে। তাঁর দাবি, একইভাবে খুব শিগগির ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় এবং হায়দরাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেভাবে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ সরানো হয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও একই ধরনের শক্তিকে সরানো হবে।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে জাতীয়তাবাদী জাগরণ হয়েছে। তাই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কেও এই ধরনের দেশবিরোধী শক্তি থেকে মুক্ত করা হবে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে নিহত মাওবাদী নেতা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজির সমর্থনে লেখা ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’ স্লোগান নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, এই কিষেণজি কে? তিনি এমন একজন, যিনি ভারতের সংবিধানে বিশ্বাস করতেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দুটি সমস্যা দূর করার ব্যাপারে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পড়াশোনা শেষ করার পরেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্ররা যাতে হস্টেলে থেকে যেতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করারও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


















