কাঠমান্ডু, ২৮ আগস্ট (আইএএনএস): নেপালের ভোতে কোশি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ হয়েছে। এখনও ৯৭৭ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। শুক্রবার ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি-র সর্বশেষ আপডেটে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নেপাল ও চিনের সীমান্তবর্তী ভোতে কোশি নদীর উজানে একটি তুষারধসের জেরে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বন্যার জলে নদীর নিম্ন অববাহিকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। বহু জনবসতি, রাস্তা, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, বিদ্যুৎ সঞ্চালন পরিকাঠামো-সহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে গেছে।
জানা গিয়েছে, বিভিন্ন জেলা থেকে এখনও পর্যন্ত ৪৬৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ান জেলায় সর্বাধিক ১৭৮টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া নওয়ালপরাসি ইস্টে ১১০, গোরখায় ৪৪, নুয়াকোটে ৩৭, তানাহুনে ২৮, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ২৭, ধাদিংয়ে ২৩ এবং রাসুয়ায় ১২টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।
নিখোঁজ ৯৭৭ জনের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছে, ভোতে কোশি নদীর ভয়াবহ বন্যার পর ২৯০ জন ভারতীয়ের এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, নেপালের বন্যায় প্রায় ৯০ জন মার্কিন নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। অন্যদিকে, চিন জানিয়েছে, বুধবারের কাদাধসের পর নেপালের ভূখণ্ডে প্রায় ১০০ জন চিনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশে বসবাসকারী ১২৭ জন নেপালিও রয়েছেন। এছাড়া ২৮ জন নেপাল পুলিশ কর্মী, ৪৫ জন নেপাল সেনা সদস্য, ১৩ জন সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কর্মী, ১৫ জন শুল্ক দফতরের কর্মী এবং চারজন অভিবাসন দফতরের কর্মীও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে এনডিআরআরএমএ।
এই বিপর্যয়ে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রাসুয়ায় ৪৩ জন, ধাদিংয়ে তিনজন এবং নুয়াকোটে ২৭ জন রয়েছেন।
উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নেপাল পুলিশ, নেপাল সেনা এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য-সহ মোট ১৩,২৯৫ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল ৩,২৫৩ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে। আটকে পড়া মানুষদের সরিয়ে নিতে এবং দুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে ত্রাণ বিতরণ বা উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি ও সংস্থাগুলিকে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসন দফতরের সঙ্গে আগে যোগাযোগ করে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর।
প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলার প্রধান জেলা আধিকারিকের দফতর স্থানীয় প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ত্রাণসামগ্রী সরাসরি দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার সমন্বিত ব্যবস্থা করবে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও পূর্বসমন্বয় ছাড়াই ছোট ব্যক্তিগত গাড়িতে অল্প পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী নিয়ে অনেকেই দুর্গত এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এর ফলে রাস্তায় ব্যাপক যানজট তৈরি হচ্ছে। জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্স চলাচলে সমস্যায় পড়ছে এবং সরকারি উদ্ধারকারী দল ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ত্রাণবাহী যানবাহনও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।



















