আগরতলা, ২৭ আগস্ট: রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিধানসভায় সরব হলেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। শিক্ষক সংকট থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, শৌচালয়, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট পরিষেবা—একাধিক বিষয় নিয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেন, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে তার মূল লক্ষ্য ও গুরুত্ব হারিয়ে ফেলছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সময়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে গেলেও রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিন তিনি রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ও তুলে ধরেন। কোন কোন স্কুলে পর্যাপ্ত শৌচালয় নেই, কোথায় কম্পিউটার শিক্ষার সুযোগ নেই, আবার কোথায় ইন্টারনেট পরিষেবা অনুপস্থিত—বিধানসভায় সেই সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিরোধী দলনেতা।
অন্যদিকে, বিদ্যা জ্যোতি প্রকল্পের আওতাধীন বিদ্যালয়গুলির শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে অর্থ নেওয়া হলেও সেই অনুপাতে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা হচ্ছে না। রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শিক্ষা দপ্তরের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব থাকায় প্রতিটি দপ্তরের কাজে পর্যাপ্ত নজর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন সুদীপ রায় বর্মন।
বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা বিধানসভায় সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যে আরও শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামোগত ঘাটতি পূরণের বিষয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলা শাসকদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা বলা হয়েছে এবং যেসব বিদ্যালয়ে বাউন্ডারি ওয়াল, পানীয় জল, বিদ্যুৎ কিংবা ব্ল্যাকবোর্ডের মতো প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে, সেগুলির তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও সুদীপ রায় বর্মনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস বিধায়ক। বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় দু’জনের মধ্যে কিছুটা বাকবিতণ্ডার পরিস্থিতিও তৈরি হয়।
শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষক সংকট দূরীকরণ এবং বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামোগত ঘাটতি পূরণ—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই এদিন বিধানসভায় সরগরম হয়ে ওঠে আলোচনা।



















