শিলচর (অসম), ২৭ আগস্ট (আইএএনএস): আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে অসমের কাছাড় জেলায় প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা মূল্যের মাদক উদ্ধার করেছে অসম রাইফেলস এবং ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স। এই ঘটনায় এক মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক পরিবহণে ব্যবহৃত একটি ট্রাকও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানান, বুধবার রাতে অসম রাইফেলস ও শিলচর ডিআরআই-এর যৌথ অভিযানে দক্ষিণ অসমের কাছাড় জেলার জুজাং পাহাড় এলাকায় ৫.৬০ লক্ষ মেথঅ্যামফেটামিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ট্যাবলেটগুলির মোট ওজন প্রায় ৬০ কেজি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর আনুমানিক মূল্য ১৬৮ কোটি টাকারও বেশি।
উদ্ধার হওয়া মাদকগুলি প্রতিবেশী মণিপুর থেকে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। ইম্ফল-জিরিবাম জাতীয় সড়ক হয়ে কাছাড় জেলার মধ্য দিয়ে এগুলি অসমে পাচার করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
আধিকারিকদের মতে, আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রটি কাছাড় এবং শ্রীভূমি (পূর্বতন করিমগঞ্জ) জেলাকে মাদক পরিবহণের ‘ট্রানজিট করিডর’ হিসেবে ব্যবহার করে দেশের অন্যান্য অংশে তা পাঠানোর চেষ্টা করছিল। এতে চক্রটির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং সংগঠিত কার্যকলাপের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি, উদ্ধার হওয়া মাদক এবং বাজেয়াপ্ত গাড়িটি পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রেকর্ড পরিমাণ এই মাদক উদ্ধারের ঘটনা আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের জন্য বড় ধাক্কা। অসম রাইফেলস এবং ডিআরআই-এর সমন্বিত অভিযানের কার্যকারিতাও এই অভিযানের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তরুণদের সুরক্ষা এবং মাদক পাচারের রুট ও নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে বাহিনী দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে।
মেথঅ্যামফেটামিন ট্যাবলেট ‘ইয়াবা’ বা ‘পার্টি ট্যাবলেট’ নামেও পরিচিত। এগুলিতে সাধারণত মেথঅ্যামফেটামিন ও ক্যাফেইনের মিশ্রণ থাকে এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলিতে উচ্চমাত্রার উত্তেজক মাদক হিসেবে এর অপব্যবহার হয়।
মাদক পাচারের ক্ষেত্রে মায়ানমারও উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে পরিচিত। অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও মিজোরাম—এই চারটি রাজ্যের সঙ্গে মায়ানমারের মোট ১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশেষ করে হেরোইন ও মেথঅ্যামফেটামিন ট্যাবলেট ভারতে ঢোকার আশঙ্কা থাকে।
মায়ানমারের চিন রাজ্যকে ভারতে বিভিন্ন ধরনের মাদক, বন্যপ্রাণী ও অন্যান্য অবৈধ সামগ্রী পাচারের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মিজোরামের চাম্পাই, সিয়াহা, লংতলাই, হ্নাহথিয়াল, সাইতুয়াল ও সেরছিপ—এই ছয়টি জেলার মাধ্যমে পাচারের রুট রয়েছে বলে জানা গেছে।
মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর, তেংনোপাল, চান্দেল, কামজং এবং উখরুল জেলা মায়ানমারের সঙ্গে ৩৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। অন্যদিকে, মিজোরামের সঙ্গে মায়ানমারের ৫১০ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ৩১৮ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত রয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে মেথঅ্যামফেটামিন ট্যাবলেট উদ্ধারের অন্যতম বড় ঘটনা এটি। এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ফলে ওই অঞ্চলের মাধ্যমে পরিচালিত আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রে বড় ধাক্কা লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।
______























