নয়াদিল্লি, ২৬ আগস্ট (আইএএনএস): ওনাম ও ঈদে মিলাদ-উন-নবি উপলক্ষে দেশবাসী এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী মানুষকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই উৎসবই মানুষের জীবনে সুখ, ঐক্য, সমৃদ্ধি, সহমর্মিতা ও আনন্দ বয়ে আনুক বলে কামনা করেছেন তিনি।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ ওনামের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলকে সুন্দর ওনামের শুভেচ্ছা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে এই প্রাণবন্ত উৎসব পালিত হচ্ছে। এই উৎসব মানুষের মধ্যে সুখ, একতা ও সমৃদ্ধির চেতনাকে আরও শক্তিশালী করুক বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঈদে মিলাদ-উন-নবি উপলক্ষেও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ঈদ মোবারক’। এই পবিত্র দিন মানুষের মধ্যে ঐক্য ও আনন্দের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করুক। সমাজের প্রতি সহমর্মিতা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা সকলকে সবসময় পথ দেখাক বলেও কামনা করেন তিনি।
কেরলের সবচেয়ে বড় এবং অন্যতম বর্ণময় ফসল উৎসব ওনাম। মালয়ালম ক্যালেন্ডারের চিঙ্গম মাসে সাধারণত আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে ১০ দিন ধরে এই উৎসব পালিত হয়। ফসল, প্রাচুর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির উদযাপন হিসেবে ওনাম বিভিন্ন সম্প্রদায় ও নানা শ্রেণির মানুষকে একত্রিত করে। বুধবার পালিত হচ্ছে উৎসবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন তিরুওনাম।
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, ওনাম উপলক্ষে রাজা মহাবলির বার্ষিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্মরণ করা হয়। মহাবলি ছিলেন একজন জ্ঞানী, উদার ও প্রজাপ্রিয় রাজা। তাঁর শাসনকালে শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করত বলে বিশ্বাস করা হয়।
পুরাণের কাহিনি অনুযায়ী, ভগবান বিষ্ণু বামন অবতার ধারণ করে মহাবলির কাছে তিন পা জমি চান। রাজা তাতে সম্মতি দিলে বামন বিশাল আকার ধারণ করে দুই পা দিয়ে পৃথিবী ও স্বর্গলোক পরিমাপ করেন। তৃতীয় পা রাখার মতো জায়গা অবশিষ্ট না থাকায় মহাবলি নিজের মাথা এগিয়ে দেন। তাঁর ভক্তি ও উদারতায় সন্তুষ্ট হয়ে বিষ্ণু তাঁকে প্রতি বছর একবার নিজের প্রজাদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেন। মহাবলির এই প্রতীকী প্রত্যাবর্তনকেই ওনাম উৎসবের মাধ্যমে স্মরণ করা হয়।
অন্যদিকে, ঈদে মিলাদ-উন-নবি বা ঈদ-এ-মিলাদ ইসলাম ধর্মের শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী স্মরণে পালিত হয়। ইসলামি ক্যালেন্ডারের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়ালের ১২তম দিনে এই দিনটি পালন করা হয়। ভারতে এ বছর ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদ-উন-নবি পালিত হচ্ছে এবং ২৫ আগস্ট থেকেই বিভিন্ন জায়গায় উৎসবের সূচনা হয়েছে।
‘মাওলিদ’ নামেও পরিচিত এই দিনটি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ‘মাওলিদ’ শব্দের অর্থ জন্মগ্রহণ বা জন্ম দেওয়া। ঐতিহাসিকভাবে এই দিনটি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, শিক্ষা ও আদর্শ স্মরণের মাধ্যমে পালন করা হয়।
নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে রবিউল আউয়াল মাসে বলে প্রচলিত। তাঁর শিক্ষা হাদিসের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছে। আত্মত্যাগ, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানুষের কল্যাণের ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি আল্লাহর শেষ নবী ও শেষ রাসুল।
ইসলামের প্রাথমিক শতাব্দীগুলিতে মিলাদ-উন-নবি উপলক্ষে সমাবেশ, কবিতা ও নবীর প্রশংসায় রচিত বিভিন্ন পদ পাঠের মাধ্যমে দিনটি পালনের রীতি গড়ে ওঠে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, মিশরের ফাতিমীয় খেলাফতের সময় এই উদযাপন আরও গুরুত্ব লাভ করে। পরবর্তী সময়ে পশ্চিম এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এই ঐতিহ্য ছড়িয়ে পড়ে এবং ইসলামি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
ভারত ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, ব্রিটেন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, রাশিয়া ও জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদে মিলাদ-উন-নবি পালিত হয়।


















