News Flash

  • Home
  • প্রধান খবর
  • ভারত-কানাডা বিশ্বের সবচেয়ে স্বাভাবিক অংশীদার, বাণিজ্য চুক্তির চেয়েও গভীর দুই দেশের বন্ধন: নির্মলা সীতারামন
Image

ভারত-কানাডা বিশ্বের সবচেয়ে স্বাভাবিক অংশীদার, বাণিজ্য চুক্তির চেয়েও গভীর দুই দেশের বন্ধন: নির্মলা সীতারামন

টরন্টো, ২৬ আগস্ট (আইএএনএস): ভারত ও কানাডাকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি বলেন, ভারত-কানাডার বন্ধন যে কোনও বাণিজ্য চুক্তির থেকেও গভীর।

চার দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় কানাডার টরন্টোয় পৌঁছন নির্মলা সীতারামন। তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য ভারত ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আর্থিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা। টরন্টোয় ভারতীয় প্রবাসী ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।

সীতারামন বলেন, গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদের অভিন্ন মূল্যবোধ, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক যোগাযোগ, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের নজিরবিহীন গতি এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ‘উল্লেখযোগ্য রূপান্তর’ ঘটেছে।

কানাডায় বসবাসকারী ভারতীয় ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই সম্প্রদায় কানাডার কর্পোরেট বোর্ডরুম, বে স্ট্রিটের ট্রেডিং ফ্লোর এবং পেনশন ফান্ডের ঝুঁকি নির্ধারণকারী কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁর মতে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী সম্প্রদায় দুই প্রাণবন্ত গণতন্ত্র এবং উদ্ভাবননির্ভর দুই অর্থনীতির মধ্যে একটি কৌশলগত সেতু হিসেবে কাজ করছে।

২০২৫ সালের জুনে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বৈঠকের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। ওই বৈঠকে দুই নেতা ‘ভবিষ্যৎমুখী কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর মাধ্যমে ভারত-কানাডা সম্পর্ককে নতুন করে গড়ে তোলার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

সীতারামন বলেন, চলতি বছরের গোড়ায় প্রধানমন্ত্রী কার্নির ভারত সফরের সময় সেই প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যায়। ওই সফরে ভারত-কানাডা সিইপিএ (CEPA) আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। পাশাপাশি কানাডীয় সংস্থা ক্যামেকোর সঙ্গে ২.৬ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের ইউরেনিয়াম চুক্তি, পুনর্নবীকৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বের কাঠামো হিসেবে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-কে গ্রহণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৭০ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

ভারত ও কানাডার সম্পর্কের গভীরতা ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুই দেশই গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কমনওয়েলথের ঐতিহ্য, একই ধরনের সংসদীয় ব্যবস্থা এবং অভিন্ন সরকারি ভাষার পাশাপাশি অধিকাংশ ভূ-রাজনৈতিক প্রশ্নে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গির মিল রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘভিত্তিক বহুপাক্ষিকতা, উত্তর-দক্ষিণ সহযোগিতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পক্ষেও উভয় দেশ সমর্থন জানায়।

তিনি বলেন, ভারত ও কানাডা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বহুসাংস্কৃতিক সমাজ, যারা বৈচিত্র্যকে সত্যিকার অর্থে মূল্য দেয়। আর এই বন্ধন যে কোনও বাণিজ্য চুক্তির থেকেও গভীর।

ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সীতারামন বলেন, ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতি। বৃহৎ বাজার, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, তরুণ জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান ভোগব্যয় এবং দ্রুত বিকশিত পুঁজিবাজার—এই সমস্ত ক্ষেত্র ভারতকে বিনিয়োগের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

তিনি জানান, দ্রুত নগরায়ণ, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং বিশ্বমানের ডিজিটাল পরিকাঠামো ভারতের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন সুযোগ তৈরি করছে। ভারতের ডিজিটাল ব্যবস্থা আর্থিক ও বাণিজ্যিক পরিষেবায় প্রবেশের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে এবং এর পরিধিও বাড়িয়েছে।

ভারত-কানাডা অংশীদারিত্ব বর্তমানে শুধু পুঁজি প্রবাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আধুনিক আর্থিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ হলেও আর্থিক পরিকাঠামোর ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই)-এর প্রশংসা করে সীতারামন বলেন, পেমেন্ট ব্যবস্থা ছাড়াও ডিজিটাল আর্থিক পরিকাঠামোর পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তুলতে কানাডার ব্যাংক, ফিনটেক সংস্থা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির সঙ্গে ভারতের সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পুঁজির জন্য ভারত নতুন প্রবেশদ্বার তৈরি করছে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, ভারতের ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস সেন্টার হিসেবে গিফট সিটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উঠে আসছে। আন্তঃসীমান্ত আর্থিক কর্মকাণ্ডের জন্য বিশেষভাবে তৈরি নিয়ন্ত্রক ও কর কাঠামো এই কেন্দ্রকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে।

সীতারামন আরও বলেন, ভারত বিমা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং পেনশনের মতো ক্ষেত্রে বিদেশি অংশগ্রহণের সুযোগ ধীরে ধীরে বাড়িয়েছে। একইসঙ্গে ভারতীয় পুঁজিবাজার আরও গভীর, তরল এবং পরিণত হয়েছে। কানাডার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এর ফলে শুধু ভারতের প্রবৃদ্ধিতে অংশ নেওয়ার সুযোগই তৈরি হচ্ছে না, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আর্থিক কর্মকাণ্ডের জন্য ভারতকে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহার করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Releated Posts

ওনাম ও ঈদে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী মোদির, বার্তা সুখ-ঐক্য-সমৃদ্ধির

নয়াদিল্লি, ২৬ আগস্ট (আইএএনএস): ওনাম ও ঈদে মিলাদ-উন-নবি উপলক্ষে দেশবাসী এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী মানুষকে শুভেচ্ছা জানালেন…

ByByNews Desk Aug 26, 2026

আদিবাসী ছাত্রদের বিক্ষোভের জেরে হস্টেলে ভর্তিতে ঊর্ধ্বসীমা তুলে নিল মহারাষ্ট্র সরকার

মুম্বই, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস):** মহারাষ্ট্রের সরকারি আদিবাসী হস্টেলে ভর্তির ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বসীমা প্রত্যাহার করল রাজ্য সরকার।…

ByBySandeep Biswas Aug 25, 2026

‘বেশিরভাগ আক্রান্তের উপসর্গ মৃদু’, সোয়াইন ফ্লু নিয়ে আশ্বস্ত করল আইসিএমআর

নয়াদিল্লি, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): দেশের একাধিক শহরে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (এইচ১এন১), যা সাধারণভাবে সোয়াইন ফ্লু নামে পরিচিত, আক্রান্তের সংখ্যা…

ByBySandeep Biswas Aug 25, 2026

‘ইসলামে হিজাব বাধ্যতামূলক’, এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার দাবি মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের

নয়াদিল্লি, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): স্কুলের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে হিজাব পরার বিষয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানালেন মুসলিম…

ByByNews Desk Aug 25, 2026

Leave a Reply

Scroll to Top