নয়াদিল্লি, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): বয়স ৫১। তবুও শুটিং রেঞ্জে মেরাজ আহমেদ খানের মানসিকতা এখনও একই—বর্তমানের দিকে মনোযোগ, কঠোর পরিশ্রম এবং একবারে একটি লক্ষ্যেই নজর রাখা। দীর্ঘ কেরিয়ারের সাফল্যের রহস্য হিসেবে এই মানসিকতাকেই তুলে ধরেছেন ভারতের প্রথম অলিম্পিক স্কিট শুটার।
মেরাজ বলেন, তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন না। প্রতিদিন এবং প্রতিটি টার্গেটকে আলাদাভাবে গ্রহণ করেন। তাঁর কথায়, বর্তমানের মধ্যে থাকাই তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারের অন্যতম রহস্য।
শৈশবে আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে পরিচয়ের প্রভাবেই শুটিংয়ে আগ্রহ তৈরি হয় মেরাজের। অনূর্ধ্ব-১২ বিভাগে তিন পজিশন রাইফেল শুটার হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু। পরে পড়াশোনা ও ক্রিকেটে মন দিতে কিছুদিন শুটিং থেকে দূরে ছিলেন। ১৯৯৪ সালে শটগান প্রতিযোগী হিসেবে ফের শুটিংয়ে ফিরে আসেন এবং ২০০০ সাল থেকে স্কিট ইভেন্টে মনোনিবেশ করেন।
ভারতীয় স্কিট শুটিংয়ে পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠেন মেরাজ। দেশের প্রথম স্কিট শুটার হিসেবে অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জন করেন তিনি। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে তাঁর অভিষেক হয়। এরপর ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত টোকিও অলিম্পিকেও অংশ নেন তিনি।
২০১৬ সালে রিও-তে অনুষ্ঠিত আইএসএসএফ বিশ্ব শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে রুপোর পদক জিতে প্রথম ভারতীয় স্কিট শুটার হিসেবে বিশ্বকাপ পর্যায়ে পদক জয়ের নজির গড়েন মেরাজ। এরপর ২০২২ সালে পুরুষদের স্কিটে ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত ISSF বিশ্বকাপ সোনা জিতে আরও একটি ইতিহাস তৈরি করেন।
২০২২ সালের সেই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। কারণ তার আগে প্রায় শুটিং ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন মেরাজ। বাবার মৃত্যু, কোভিড-১৯ মহামারি এবং স্পনসরশিপ হারানোর কারণে তাঁর খেলোয়াড়জীবন কঠিন হয়ে পড়েছিল।
মেরাজ স্মৃতিচারণ করে বলেন, একটা সময় তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো এবার খেলাটাকে বিদায় জানানোর সময় এসেছে। কিন্তু প্রতিযোগিতার আগুন তখনও নিভে যায়নি। নিজের অর্থ বিনিয়োগ করে তিনি ফের শুটিংয়ে ফিরে আসেন এবং কোরিয়ায় বিশ্বকাপ সোনা জিতে প্রমাণ করেন, এখনও তাঁর মধ্যে সাফল্য অর্জনের ক্ষমতা রয়েছে।
২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলেও এখন তাঁর লক্ষ্য ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক। মেরাজ বলেন, প্যারিসে সুযোগ পাননি, কিন্তু তিনি কখনও হাল ছাড়েন না। এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য লস অ্যাঞ্জেলেস। হয়তো সেখানেই তাঁর চূড়ান্ত স্বপ্ন পূরণ হবে।
সামনেই আরও একটি এশিয়ান গেমস। তবে সেখানেও পদক নিয়ে কোনও ভবিষ্যদ্বাণী করতে রাজি নন মেরাজ। তাঁর দর্শন একই—প্রথম টার্গেটে মনোযোগ দেওয়া, বর্তমান মুহূর্তে থাকা এবং নিজের সেরাটা দেওয়া।
তিনি বলেন, তাঁর লক্ষ্য সবসময় একবারে একটি টার্গেট। তিনি আগে থেকে বলতে পারেন না যে সোনা বা রুপো জিতবেন। যা ফল আসবে, তা মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। নিজের সামর্থ্য এবং কঠোর পরিশ্রম অনুযায়ী তিনি সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
তিন দশকেরও বেশি সময়ের কেরিয়ার, দুটি অলিম্পিক অংশগ্রহণ এবং ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ সোনার পরও মেরাজ আহমেদ খানের লক্ষ্য একই—নিখুঁত শটের সন্ধান। আর সেই পথচলায় তাঁর মন্ত্রও একটাই—একবারে একটি টার্গেট।
_______



















