জয়পুর, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): চলমান জাতিগণনা প্রক্রিয়াকে ‘সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ’ বলে দাবি করে অবিলম্বে তা সংশোধনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানালেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। তাঁর অভিযোগ, জাতিগণনার মূল উদ্দেশ্যকে দুর্বল করা এবং সঠিক তথ্য প্রকাশ্যে আসা আটকানোর জন্যই কেন্দ্র পরিকল্পিতভাবে এই বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
গেহলট বলেন, জাতিগণনার ঘোষণা যখন করা হয়েছিল, তখন সকলেই তা স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে, তাতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র ‘ওপেন-এন্ডেড প্রশ্ন’ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। এই পদ্ধতিতে প্রত্যেক ব্যক্তির জাতির নাম তিনি যেভাবে বলবেন, ঠিক সেভাবেই নথিভুক্ত করা হবে।
গেহলটের মতে, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে একই জাতি ভিন্ন নাম, উপ-জাতি এবং ভাষাগত বৈচিত্র্যের মাধ্যমে পরিচিত। ফলে একই জাতি হাজার হাজার পৃথক নামে নথিভুক্ত হতে পারে। এর ফলে চূড়ান্ত তথ্য বিভক্ত হয়ে যাবে এবং সেই পরিসংখ্যান নির্ভরযোগ্য বা কার্যকরভাবে ব্যবহারযোগ্য থাকবে না।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে গেহলট উল্লেখ করেন, জাতিগণনার প্রশ্নপত্রে ‘অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি’ (OBC) শব্দটিই রাখা হয়নি। তাঁর মতে, এর ফলে দেশে অনগ্রসর শ্রেণির প্রকৃত জনসংখ্যা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে না।
গেহলট জানান, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে আগেই একটি পূর্ণাঙ্গ জাতির তালিকা প্রস্তুতের দাবি জানিয়েছেন। ২০২৪ সালে তেলেঙ্গানা এবং ২০২২ সালে বিহারে জাতিগত সমীক্ষার সময়ও একই ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, কেন্দ্রকে অবিলম্বে বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া প্রত্যাহার করে রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে।
গেহলট বলেন, দেশের সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটানো নির্ভুল ও অর্থবহ তথ্য তৈরি করতে পারলেই জাতিগণনার উদ্দেশ্য সফল হবে। সামাজিক ন্যায়, সমান প্রতিনিধিত্ব এবং সমাজের পিছিয়ে থাকা অংশের কল্যাণে কার্যকর নীতি প্রণয়নের জন্য এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



















