শিলং, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ)-এর পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য সংগঠনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে মেঘালয় সরকার। তবে গ্রেফতার হওয়া কেএসইউ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী চলবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাংমা জানান, সরকার ইতিমধ্যেই কেএসইউকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা অথবা মঙ্গলবারের মধ্যে সংগঠনের তরফে জবাব আসবে বলে আশা করছে সরকার। তিনি বলেন, “আমরা পাঁচটি দাবিই এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করব।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, কেএসইউ যে কয়েকটি বিষয় উত্থাপন করেছে, তার বেশ কিছু ইতিমধ্যেই সরকার বিবেচনা করছে।
কেএসইউর দাবিগুলির বিষয়ে সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি—এই অভিযোগ খারিজ করে সাংমা বলেন, মূলত যোগাযোগের ঘাটতির কারণেই দু’পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। কেএসইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে সরকার প্রতিটি বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ওঠা দাবির ক্ষেত্রে যেখানে সম্ভব, সরকার ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করেছে।
গ্রেফতার হওয়া কেএসইউ নেতাদের মুক্তি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা MMPO/MPDA ধারাগুলি প্রত্যাহারের দাবি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তাঁর কথায়, “আইন নিজের পথেই চলবে।” কোনও নির্দিষ্ট সংগঠন বা ব্যক্তি জড়িত থাকার কারণে প্রশাসনের কাজের ধরন বদলানো সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
১৯ আগস্টের হিংসার ঘটনা নিয়ে তদন্ত প্রসঙ্গে সাংমা জানান, তিনি তদন্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। তবে ইতিমধ্যেই পাঁচজন মুখোশধারী দুষ্কৃতীকে শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। হিংসার জন্য দায়ী প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে আরও পদক্ষেপ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভবিষ্যতে মিছিল ও র্যালির ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়মের বিষয়ে সাংমা বলেন, এই ধরনের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়ার সময় যে শর্ত ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, তা আরও শক্তিশালী করা হবে।
কালো পতাকা নিয়ে বাইক র্যালির সময় গোয়েন্দা ব্যর্থতার অভিযোগও খারিজ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন রুটে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে ঘটনাগুলির ব্যাপকতা এবং ভৌগোলিক বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্যা হয়।
সাংমা বলেন, আগে দেওয়া আশ্বাসের ভিত্তিতে প্রশাসন ধরে নিয়েছিল যে র্যালিটি শান্তিপূর্ণভাবেই হবে। কিন্তু অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের হিংসার ধরন ও ব্যাপকতা ছিল নজিরবিহীন। এমনকি সাধারণ মানুষও এই ঘটনায় হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রশাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিল, কিন্তু হিংসার ঘটনা যেভাবে আচমকা এবং ব্যাপক আকার ধারণ করে, তার জন্য তারা প্রস্তুত ছিল না।
–আইএএনএস



















