গুয়াহাটি, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): শিলংয়ে গত ১৯ আগস্ট খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ)-এর কালো পতাকা নিয়ে বাইক র্যালিকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া হিংসার ঘটনায় সংগঠনের আরও এক শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে কেএসইউ-র সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক জেরেমিয়া পোথমিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, পোথমি সেই পাঁচ মুখোশধারী ব্যক্তির অন্যতম, যাদের হিংসার সময় অগ্নিসংযোগ ও হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে শনাক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে অসমের নম্বরযুক্ত গাড়িতে হামলার ঘটনায় তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই গ্রেফতারের কয়েক দিন আগে একই মামলায় কেএসইউ-র আরও তিন শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁরা হলেন কেএসইউ সভাপতি রেমন্ড খারজানা, সহ-সভাপতি পিনকমেনলাং সানমিয়েত এবং সাধারণ সম্পাদক রুবেন নাজিয়ার। ১৯ আগস্ট কেএসইউ-র কালো পতাকা নিয়ে বাইক র্যালি এবং তার পরবর্তী হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের এই পদক্ষেপের ফলে হিংসায় কেএসইউ সদস্য এবং অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে অসমের নম্বরযুক্ত গাড়িতে হামলার ঘটনাগুলির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
সোমবার মেঘালয় বিধানসভায় স্বতঃপ্রণোদিত বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা জানান, এখনও পর্যন্ত হিংসার ঘটনায় জড়িত পাঁচজন মুখোশধারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “১৯ আগস্টের ঘটনায়, বিশেষ করে অসমের নম্বরযুক্ত গাড়িতে হামলার ঘটনায় পাঁচজন মুখোশধারীকে এখনও পর্যন্ত শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।”
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তদন্তের সর্বশেষ তথ্য তাঁর কাছে এই মুহূর্তে নেই। তবে দিনের মধ্যে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন এবং হিংসার জন্য দায়ী প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৯ আগস্টের হিংসার ঘটনায় শিলংয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অসম ও মেঘালয়ের মধ্যে যাতায়াতকারী মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। অশান্তির সময় বেশ কয়েকটি অসমের নম্বরযুক্ত গাড়িকে হামলার নিশানা করা হয় বলে অভিযোগ।
মেঘালয় সরকার জানিয়েছে, হিংসার ঘটনায় আইন নিজের পথে চলবে। ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা এড়াতে মিছিল ও র্যালির অনুমতি দেওয়ার সময় আরোপিত শর্ত ও বিধিনিষেধ আরও কঠোর করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সাংমা।
এদিকে, হিংসার ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। সর্বশেষ গ্রেফতারের পর এই মামলায় কেএসইউ নেতাদের গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার।
–আইএএনএস



















