কলকাতা, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেইউ) সিপিআই(এম)-এর ছাত্র সংগঠন এসএফআই এবং এবিভিপির সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির প্রধানের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানালেন প্রাক্তন উপাচার্য শুভশঙ্কর সরকার। ফলে তদন্ত কমিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পরপর দুটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বুধবার ও বৃহস্পতিবারের মধ্যবর্তী রাতে প্রথম সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবার দুপুরেও দুই পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা ও সংঘর্ষ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান করা হয় নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য শুভশঙ্কর সরকারকে। অন্য দুই সদস্য হলেন বাবাসাহেব আম্বেদকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অরুণাশিস গোস্বামী এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর ডিরেক্টর সৌমেন্দু চট্টোপাধ্যায়।
তবে সূত্রের খবর, শনিবার সন্ধ্যায় শুভশঙ্কর সরকার ই-মেলের মাধ্যমে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেন যে তিনি তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন।
এই ঘটনায় নির্ধারিত সময়ে তদন্ত কমিটি আদৌ কাজ শুরু করতে পারবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটির কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে শুভশঙ্কর সরকারের নিয়োগ নিয়ে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (এবিআরএসএম) আপত্তি তুলেছিল। সংগঠনটির দাবি, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত কয়েকটি মামলায় শুভশঙ্কর সরকারের নাম উঠে এসেছিল।
তবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করেছে, এবিআরএসএম আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানানোর আগেই শুভশঙ্কর সরকার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ই-মেল করে তদন্ত কমিটির প্রধানের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
ওই সূত্রের কথায়, “তাই তাঁর সিদ্ধান্তের সঙ্গে এবিআরএসএমের আপত্তির সরাসরি কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।”
এই পরিস্থিতিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সামনে মূলত দুটি বিকল্প রয়েছে। প্রথমত, শুভশঙ্কর সরকারের পরিবর্তে অন্য কাউকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, নতুন সদস্যদের নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে। সূত্রের খবর, সোমবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেশবিরোধী কার্যকলাপ’ বন্ধ করে সেখানে জাতীয়তাবাদের চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে তিনি ‘যে কোনও মূল্যে’ উদ্যোগী।
তিনি অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে দেওয়া হয় না, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না এবং শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকতে দেওয়া হয় না। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতেও বাধা দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদের চেতনা প্রতিষ্ঠা করা হবে।
–আইএএনএস



















