আগরতলা, ২২ আগস্ট: ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের আগে শাসক জোটের দুই শরিকের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল এডিসি সদর খুমলুং এলাকা। শনিবার প্রকাশ্য দিবালোকে খুমলুংস্থিত বিজেপি কার্যালয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় কার্যালয় চত্বরে থাকা ১২টি বাইক এবং ২টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শনিবার দিনের বেলাতেই একদল দুষ্কৃতী খুমলুংয়ের বিজেপি কার্যালয় চত্বরে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। সেখানে রাখা একাধিক বাইক ও গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। আচমকা এই হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। যদিও হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। হামলার ঘটনায় অভিযোগের তির তিপ্রা মথার দিকেই। হামলার প্রকৃত কারণ এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনার পর খুমলুং এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল সংখ্যক নিরাপত্তাবাহিনী। এলাকায় যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও প্রশাসন।
উল্লেখ্য, খুমলুংয়ের এই বিজেপি কার্যালয়কে ঘিরে এর আগেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ফলে ফের একই কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল। বিশেষ করে সামনে ভিলেজ কমিটি নির্বাচন থাকায় ঘটনাটিকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শাসক জোটের দুই শরিকের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য ও টানাপোড়েনের খবর সামনে এসেছে। তার মধ্যেই এদিনের হামলার ঘটনা নতুন করে সেই রাজনৈতিক সমীকরণকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তবে হামলার সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
এদিকে, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। কোনও ধরনের গুজব বা উত্তেজনা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কারও গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।



















