গুয়াহাটি, ২২ আগস্ট (আইএএনএস): শিলংয়ে সাম্প্রতিক হিংসাত্মক ঘটনার পর অসম ও মেঘালয়ের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে শনিবার অসম থেকে মেঘালয়ে পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি পরিবহণ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিল নর্থ-ইস্ট পেট্রোলিয়াম মজদুর ইউনিয়ন।
অসমে নথিভুক্ত যানবাহন এবং চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মেঘালয়ে জ্বালানি পরিবহণ, লোডিং ও আনলোডিং বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
গত ১৯ আগস্ট খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ)-এর আয়োজিত কালো পতাকা-সহ মোটরসাইকেল মিছিলকে কেন্দ্র করে শিলংয়ে হিংসা ছড়ায়। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং অসমের নম্বরযুক্ত ৩০টিরও বেশি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত বা ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে।
এনইপিএমজেড-এর সাধারণ সম্পাদক রমেন ডেকা জানিয়েছেন, চলমান অশান্তি এবং চালকদের হেনস্তা ও হামলার অভিযোগের মধ্যে পেট্রোলিয়াম কর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় যানবাহন এবং পণ্য—উভয়ের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, এই পদক্ষেপ কোনও ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যে নয়। মেঘালয় সরকারকে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি হিংসা ও হয়রানির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের ঘটনা দুই রাজ্যের মধ্যে চলমান পরিবহণ অচলাবস্থাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অসমের ট্যাক্সি ও বাণিজ্যিক যানবাহনের চালকরাও শিলংয়ে পরিষেবা বন্ধ রেখেছেন। অসম-মেঘালয় সড়কের জোরাবাট-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবরোধের খবরও পাওয়া গেছে।
এর ফলে মেঘালয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি এবং অন্যান্য পণ্যের জন্য মেঘালয় মূলত অসমের সড়ক যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল। ইতিমধ্যেই শিলংয়ের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা এবং দীর্ঘ লাইন দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতির মধ্যে মেঘালয়ে অগ্নিসংযোগ ও সরকারি সম্পত্তিতে হামলার নতুন ঘটনাও ঘটেছে। শিলংয়ে একটি পুলিশ ফাঁড়ি লক্ষ্য করে পেট্রল বোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। রি-ভই এলাকায় সরকারি যানবাহন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মেঘালয়ে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পাঁচ কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তঃরাজ্য যাতায়াত স্বাভাবিক করতে অসম ও মেঘালয়—দুই রাজ্যের প্রশাসনই উদ্যোগ নিয়েছে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে রাজ্যের সীমান্ত উন্নয়নমন্ত্রী অতুল বরা মেঘালয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী প্রেস্টোন টাইনসঙের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
জ্বালানি পরিবহণ বন্ধের এই সিদ্ধান্তকে দুই রাজ্যের মধ্যে চলমান উত্তেজনার বড় ধরনের বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিলংয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন আন্তঃরাজ্য পরিবহণ, পর্যটন এবং মেঘালয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।



















