মুম্বই, ২২ আগস্ট (আইএএনএস): কয়েক দশকের অভিনয় জীবনে বাংলা সিনেমায় নিজের বিশেষ জায়গা তৈরি করেছেন অভিনেতা জিৎ। তবে তাঁর কাছে তারকা পরিচয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একজন শিল্পী ও মানুষ হিসেবে তাঁর পরিচয়। তিনি মনে করেন, স্টারডম জীবনের একটি অংশ মাত্র, কখনওই পুরো জীবন নয়।
তারকা হিসেবে দায়িত্ব এবং জনপ্রিয়তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জিৎ বলেন, মানুষের ভালোবাসা তাঁকে এখনও অবাক করে। তবে বাড়ি ফেরার পর তিনি কারও বাবা, কারও স্বামী এবং কারও ভাই—এই পরিচয়গুলিই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলা সিনেমার সুপারস্টার হিসেবে দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে জিৎ বলেন, “আমি একজন শিল্পী। আমি একজন মানুষ। সবকিছুর আগে আমি একজন মানুষ। আমার মনে হয়, কাজ জীবনের একটি অংশ। আর আমি এমন একটি পেশায় রয়েছি, যেখানে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়।”
তিনি আরও বলেন, তাঁর কাজ মানুষের কাছে খুব দ্রুত পৌঁছে যায় এবং আরও গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। এর ফলে মানুষের সঙ্গে এক ধরনের বিশেষ সম্পর্ক তৈরি হয়।
জিৎ জানান, বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করার সময় এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা হলে তাঁদের ভালোবাসা তাঁকে মাঝে মাঝে বিস্মিত করে। তাঁর কথায়, মানুষের চোখে ভালোবাসার ঝিলিক দেখতে পান তিনি এবং এই নিঃশর্ত ভালোবাসা তাঁকে জীবন সম্পর্কে নতুন করে ভাবায়।
অভিনেতার কথায়, “যখন আমি বাড়ি ফিরে যাই, তখন আমি কারও বাবা, কারও স্বামী, কারও ভাই। আমার কাছে স্টারডম জীবনের একটি অতিরিক্ত অংশ মাত্র। এটা আমার জীবন নয়।”
জিৎ-এর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’। পাথিকৃৎ বসু পরিচালিত এই বায়োগ্রাফিক্যাল অ্যাকশন ড্রামায় তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন টোটা রায়চৌধুরী, কৌশিক সেন, রজতাভ দত্ত, চন্দন সেন, লোকনাথ দে এবং মিমি চক্রবর্তী।
১৯৬০-এর দশকের কলকাতার প্রেক্ষাপটে তৈরি ছবিতে রহস্যময় অনন্ত সিংয়ের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে তাঁর দুঃসাহসী ডাকাতি নিয়ে সমাজে বিভাজন তৈরি হয়—কেউ তাঁকে অপরাধী হিসেবে দেখেন, আবার কেউ তাঁকে আধুনিক সময়ের বিপ্লবী হিসেবে শ্রদ্ধা করেন।
৪৭ বছর বয়সি জিৎ-এর অভিনয়জীবন দুই দশকেরও বেশি সময়ের। এখনও পর্যন্ত তিনি ৫৭টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। ‘বস’ নামে পরিচিত এই অভিনেতা বর্তমানে ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্টস’ ফোরামের কার্যনির্বাহী সভাপতি।
























