নয়াদিল্লি, ১৭ আগস্ট (আইএএনএস): দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ একটি সংগঠিত গাড়ি চুরি ও চোরাই গাড়ি পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি চোরাই গাড়ি, ১০৪টি জাল হাই সিকিউরিটি রেজিস্ট্রেশন প্লেট এবং ২৪টি জাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে সোমবার পুলিশ জানিয়েছে।
ক্রাইম ব্রাঞ্চের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ধৃতদের মধ্যে রয়েছে রোহিণীর বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সি অমিত নগর ওরফে সোনু, মণিপুরের ইম্ফল ইস্টের ৪৫ বছর বয়সি অ্যাটম জগৎ সিং এবং একই এলাকার ২৮ বছর বয়সি পোৎসাংবাম মুকেশ সিং।
পুলিশের দাবি, অমিত নগরের নেতৃত্বে এই চক্রটি একাধিক রাজ্যে সক্রিয় ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে নগর জানিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি, সে বিভিন্ন রাজ্যে গ্রাহকদের কাছে ১০০টিরও বেশি চোরাই বিলাসবহুল গাড়ি সরবরাহ করেছে। মকোকা আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গাড়ি চুরির বিভিন্ন মামলা, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। গত ১২ মে ছত্তরপুর এনক্লেভ ফেজ-২ এলাকা থেকে পোৎসাংবাম মুকেশ সিংকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে জাল RC উদ্ধার হয়। পরে তার ভাড়া করা বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নম্বর প্লেট লাগানোর যন্ত্র, ১০৪টি জাল এইচএসআরপি এবং ২২টি জাল আরসি উদ্ধার করা হয়। তার দেখানো জায়গা থেকে ওয়াজিরাবাদে একটি চোরাই মারুতি ব্যালেনো উদ্ধার করা হয়।
এরপর ১৪ মে অ্যাটম জগৎ সিংকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেখানো জায়গা থেকে মুখার্জি নগরে একটি চোরাই মারুতি সুইফট উদ্ধার করা হয়। ২৮ জুলাই অমিত নগরকে গ্রেফতারের পর তার কাছ থেকে আরও একটি চোরাই মারুতি সুইফট ডিজায়ার উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নগর সহযোগীদের মাধ্যমে চোরাই গাড়ি সংগ্রহ করে সেগুলি অন্য রাজ্যে পাচার ও বিক্রির ব্যবস্থা করত। গত ১৩ আগস্ট মণিপুরের উখরুল জেলায়, মিয়ানমার সীমান্তের কাছ থেকে আরও দুটি চোরাই গাড়ি—কিয়া সেলটোস এবং হুন্ডাই ক্রেটা—উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, দিল্লি থেকে চুরি হওয়া এই গাড়িগুলি সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল এবং সেগুলি আন্ডারগ্রাউন্ড গোষ্ঠীর কাছে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল।
ক্রাইম ব্রাঞ্চের মতে, চক্রটি ডুপ্লিকেট চাবি, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম এবং কম্পিউটার-ভিত্তিক ডিভাইস ব্যবহার করে গাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে দামি গাড়ি ও এসইউভি চুরি করত। পরে জাল রেজিস্ট্রেশন নথি ও নম্বর প্লেট ব্যবহার করে সেগুলি বিক্রি করা হত।
পুলিশ জানিয়েছে, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, রাজস্থান, পাঞ্জাব, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে এই চক্রের সহযোগীরা সক্রিয় ছিল। চক্রের আরও সদস্যকে শনাক্ত করা, অতিরিক্ত চোরাই গাড়ির সন্ধান এবং চুরি থেকে পরিবহণ ও বিক্রি পর্যন্ত পুরো নেটওয়ার্কের সন্ধান পেতে তদন্ত চলছে।



















