নয়াদিল্লি, ১৬ আগস্ট (আইএএনএস): প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতরত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুবার্ষিকীতে রবিবার তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাজপেয়ীর অসাধারণ নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা এবং দেশসেবায় তাঁর আজীবন অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ মোদি লেখেন, “অটলজিকে তাঁর পুণ্যতিথিতে স্মরণ করছি। অসাধারণ দূরদর্শিতার অধিকারী এক অনন্য রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি নিজের জীবন দেশসেবায় উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর কথা ও প্রচেষ্টা প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং তাঁর নেতৃত্ব দেশকে শক্তিশালী করেছে। সুশাসন ও জনকল্যাণের প্রতি তাঁর গুরুত্ব আমাদের সবসময় পথ দেখাবে।”
ভারতের অন্যতম বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাজপেয়ী তিন দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় জাতীয় নিরাপত্তা, পরিকাঠামো, অর্থনীতি এবং কূটনীতির ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বাজপেয়ীকে শ্রদ্ধা জানান। তাঁকে দেশপ্রেমিক ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উল্লেখ করে শাহ বলেন, দেশের সেবায় বাজপেয়ী তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছিলেন।
জাতীয় নিরাপত্তা ও সুশাসনে বাজপেয়ীর অবদানের কথা তুলে ধরে শাহ বলেন, একদিকে পরমাণু পরীক্ষা ও কার্গিল যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের কাছে ভারতের শক্তি তুলে ধরেছিলেন, অন্যদিকে মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে অন্ত্যোদয় ও সুশাসনের ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান। বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বাজপেয়ীর ভারতের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও কূটনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
এদিন নয়াদিল্লির ‘সদৈব অটল’-এ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সি.পি. রাধাকৃষ্ণন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বাজপেয়ীর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। তাঁর স্মরণে আয়োজিত প্রার্থনা সভাতেও তাঁরা অংশ নেন।
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, রাজ্যসভার উপাধ্যক্ষ হরিবংশ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও শ্রদ্ধা জানান।
১৯২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে জন্মগ্রহণ করেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ছিলেন কবি ও লেখক। ১৯৯৬ সালে ১৩ দিনের জন্য প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। এরপর ১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত প্রায় ১৩ মাস এবং ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত পূর্ণ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট নয়াদিল্লির AIIMS-এ তাঁর মৃত্যু হয়।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বাজপেয়ীকে স্মরণ করে বলেন, তিনি সারাজীবন দেশসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার শিক্ষা দিয়েছিলেন। বিরোধী দলনেতা, বিজেপি নেতা বা দেশের প্রধানমন্ত্রী—যে ভূমিকাতেই থাকুন না কেন, দেশের প্রতিটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলার বার্তাই তিনি দিয়েছেন বলে জানান গুপ্তা।
বিহারের বিজেপি সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ বাজপেয়ীকে মহান নেতা হিসেবে স্মরণ করেন। ঝাড়খণ্ড বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বাবুলাল মারান্ডি তাঁকে ‘অজাতশত্রু’ বলে উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সব দলের নেতাই তাঁকে সম্মান করতেন। ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনে বাজপেয়ীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
আন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্যপাল এস. আবদুল নাজির, মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু এবং উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণও বাজপেয়ীর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানান। তাঁরা বাজপেয়ীকে দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, দেশপ্রেমিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রবক্তা হিসেবে স্মরণ করেন।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও বাজপেয়ীকে জাতীয়তাবাদ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং আদর্শ রাজনীতির অন্যতম প্রধান প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী বাজপেয়ীর কবিতার পংক্তি উদ্ধৃত করে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন। উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য ও ব্রজেশ পাঠকও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর অবদান তুলে ধরে শ্রদ্ধা জানান।
বিভিন্ন রাজ্যের নেতারা বলেন, বাজপেয়ীর ‘নেশন ফার্স্ট’ ভাবনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সুশাসন, জনসেবা এবং ঐকমত্যের রাজনীতির দর্শন আগামী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে।
—আইএনএস



















