বক্সনগর, ১৬ আগস্ট: দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রস্তুতিকালে বাধা প্রদান এবং সিপিআই(এম) কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বক্সনগর বিধানসভা কেন্দ্রের দক্ষিণ কলমচৌড়া এলাকায়।
অভিযোগ, ১৫ আগস্ট সকালে সিপিআই(এম) বক্সনগর অঞ্চল কমিটির দক্ষিণ কলমচৌড়া দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছিল। সেই সময় পার্কিংয়ে রাখা কয়েকটি মোটরসাইকেল সরিয়ে নিতে বলা হলে বিষয়টি নিয়ে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে সিপিআই(এম) কর্মীদের বচসা শুরু হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায়। সিপিআই(এম)-এর অভিযোগ, স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান বাপন সরকারের নেতৃত্বে একদল বিজেপি কর্মী ঘটনাস্থলে এসে তাদের কর্মীদের বাধা দেন এবং গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন দলীয় কর্মী ও নেতাকে শারীরিকভাবে নিগৃহীত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনায় সিপিআই(এম) বক্সনগর অঞ্চল কমিটির সম্পাদক তথা মহকুমা কমিটির সদস্য নির্মল সরকার, বক্সনগর লোক্যাল কমিটির সদস্য বিজয় ভূষণ সরকার-সহ দলীয় কর্মী ও বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা আক্রান্ত হন বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি ১৫ আগস্ট সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টা নাগাদ ঘটে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান বাপন সরকার, অভিজিৎ সরকার, কান্তি সরকার, রামকৃষ্ণ সরকার-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে কলমচৌড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সিপিআই(এম) সোনামুড়া মহকুমা কমিটির উদ্যোগে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সোনামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অভিজিৎ দাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ডেপুটেশন প্রদান করে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা পুলিশ আধিকারিকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশ আধিকারিক প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে, স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মতো একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বাধা ও হামলার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।



















