নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট (আইএএনএস): স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুব উন্নয়ন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, ক্রীড়া, নাগরিক প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন এবং পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে একাধিক বড় উদ্যোগের ঘোষণা করেছেন। লালকেল্লার প্রাচীর থেকে দেওয়া ভাষণে তিনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং, ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের জন্য দেশব্যাপী ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, আধুনিক সিভিল ডিফেন্স নেটওয়ার্ক এবং এক কোটি যুবক-যুবতীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-তে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনার কথা জানান।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোচিংয়ের বাড়তি খরচের বোঝা কমাতে বিনামূল্যে অনলাইন কোচিং ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, দক্ষ শিক্ষক এবং দেশের মেধাবী শিক্ষকদের একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। এর ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক চাপ কমবে এবং পড়ুয়ারা বাড়িতে থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারবে।
আধুনিক নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী সিভিল ডিফেন্স নেটওয়ার্ক তৈরির কথাও জানান মোদি। আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে সজ্জিত একটি বড় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। এই বাহিনীকে সমকালীন সংকট ও জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রশিক্ষিত করা হবে।
ক্রীড়াক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০৩৬ সালের অলিম্পিকে অন্তত তিন-চতুর্থাংশ ইভেন্টে ভারতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের জন্য দেশব্যাপী ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি চালুর কথা জানান তিনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান শিশুদের চিহ্নিত করে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যেও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে ইতিমধ্যেই তিনটি বড় সেমিকন্ডাক্টর কারখানা স্থাপিত হয়েছে এবং সেখান থেকে রপ্তানির জন্য উৎপাদনও শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক বছরে আরও পাঁচ থেকে আটটি সেমিকন্ডাক্টর কারখানা চালু করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রেও বড় লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন মোদি। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী ছয় থেকে সাত বছরের মধ্যে পাঁচটি নতুন পারমাণবিক চুল্লি চালু করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে ফাস্ট ব্রিডার নিউক্লিয়ার প্রযুক্তিতে ভারতের অগ্রগতিকে আত্মনির্ভর পরমাণু জ্বালানি ব্যবস্থার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের ৫০টি সংস্থাকে বিশ্বের ফর্চুন ৫০০ তালিকায় স্থান দেওয়া এবং একটি ভারতীয় ব্যাঙ্ককে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি ব্যাঙ্কের মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্য রয়েছে।
এছাড়া আগামী এক বছরে এক কোটি যুবক-যুবতীকে এআই-ভিত্তিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন মোদি। তিনি বলেন, এআই-এর ক্ষেত্রে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো দক্ষতা ভারতীয় যুবকদের মধ্যে তৈরি করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
দেশে বর্তমানে ২.৫ লক্ষেরও বেশি স্টার্টআপ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, যুবসমাজের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা মনোভাবকে কাজে লাগিয়েই ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে।
_______
























