নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতের সঙ্গে নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও মৌলবাদ ছড়ানোর কাজে সক্রিয় রয়েছে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে অভিযোগ ওঠার পর উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। খোলা সীমান্তের কারণে এই পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন নিরাপত্তা আধিকারিকরা।
ভারতীয় সংস্থাগুলি নেপালের পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। জুলাই মাসে নেপালে একটি সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আধিকারিকদের আশঙ্কা, এই ধরনের ঘটনাগুলি বৃহত্তর কোনও প্রবণতার অংশ হতে পারে এবং তা ভারতের নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
এক গোয়েন্দা ব্যুরো আধিকারিকের দাবি, ভারতীয় ভূখণ্ডে জঙ্গিদের প্রবেশ করানোর জন্য পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নেপালকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বর্তমানে উদ্বেগের বিষয় হল, নেপালের জনসংখ্যাগত ও সাম্প্রদায়িক কাঠামোকে প্রভাবিত করার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে গোয়েন্দারা মনে করছেন।
ওই আধিকারিকের দাবি, নেপালে দ্রুত জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ঘটছে এবং এর ফলে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের আশঙ্কাও বাড়ছে। ধর্মান্তরণের গতি নিয়ে নেপালের একাধিক হিন্দু সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আরেক আধিকারিকের মতে, ভারতের সীমান্তবর্তী তেরাই অঞ্চলে গত এক বছরে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতি ভারতের ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং সীমান্তবর্তী পরিস্থিতি দ্রুত স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা সংস্থার আধিকারিকরা।
তেরাই অঞ্চলে এই ধরনের সংঘর্ষের ঘনঘন ঘটনা আগে দেখা যেত না বলেও দাবি করা হয়েছে। আধিকারিকদের অভিযোগ, ওই অঞ্চলে মৌলবাদ ছড়ানোর বিভিন্ন কর্মসূচিতে আইএসআই উল্লেখযোগ্য সম্পদ বিনিয়োগ করেছে।
গোয়েন্দা আধিকারিকরা তেরাই অঞ্চলে তথাকথিত ওয়াহাবি কার্যকলাপ বৃদ্ধিরও অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, এই ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত একাধিক মাদ্রাসার সংখ্যা সম্প্রতি দ্রুত বেড়েছে, যা তাঁদের মতে মৌলবাদ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
নেপালগঞ্জে দাওয়াত-ই-ইসলামির সদস্যদের থাকার জন্য একটি অতিথিশালা তৈরি করা হয়েছে বলেও আধিকারিকরা দাবি করেছেন। পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত এই ইসলামি ধর্মপ্রচারক সংগঠনটি হিন্দুধর্মের সমালোচনা করে এবং মানুষকে হিন্দুধর্ম প্রত্যাখ্যান করতে উৎসাহিত করে বলে তাঁদের অভিযোগ।
ভারতীয় নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, এই ঘটনাগুলির জেরে নেপালে একাধিক ইসলামপন্থী সংগঠনের উত্থান ঘটেছে এবং এর ফল হিসেবে মৌলবাদ ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গোয়েন্দা আধিকারিকরা আরও দাবি করেছেন, অতীতে আইএসআই বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যাগত ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছে। নেপালের তেরাই অঞ্চলের ভারতের সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে।
নেপালের পরিস্থিতির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি অঞ্চলে আগে উত্থাপিত নিরাপত্তা উদ্বেগেরও তুলনা করেছেন আধিকারিকরা। তাঁদের অভিযোগ, আইএসআই-সমর্থিত উপাদানগুলি ওই অঞ্চলগুলিতে অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশে সহায়তা করেছে এবং এর ফলে জনসংখ্যাগত চাপ ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির উদ্বেগ শুধু জনসংখ্যাগত পরিবর্তন বা সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ নয়। খোলা ভারত-নেপাল সীমান্ত দিয়ে এই অস্থিরতা ভারতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাকেই তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নেপালগঞ্জ ও সংলগ্ন তেরাই অঞ্চল উত্তরপ্রদেশের সীমান্তের কাছাকাছি। এর মধ্যে বাহরাইচ জেলার কিছু এলাকাও রয়েছে। ২০২৪ সালে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বাহরাইচে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় অগ্নিসংযোগ হয় এবং পরে জাতীয় নিরাপত্তা আইন বা এনএসএ প্রয়োগ করা হয়।
আধিকারিকদের আশঙ্কা, নেপালে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করে তা ভারতের ভূখণ্ডে ছড়িয়ে দেওয়াই আইএসআইয়ের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে। পাশাপাশি, বারবার সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরি হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির আরও আশঙ্কা, এই ধরনের অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে আইএসআই নেপাল সীমান্ত দিয়ে জঙ্গিদের ভারতে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে পারে। পরবর্তীতে তাদের জম্মু-কাশ্মীরসহ দেশের অন্যান্য অংশে পাঠানো হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আধিকারিকরা।
–আইএনএস
















