নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট (আইএএনএস): বড় স্বপ্ন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী জাতীয় লক্ষ্যই দেশের উন্নয়নের গতি বাড়ায় বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে শনিবার লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি পরমাণু শক্তি, গভীর সমুদ্র অনুসন্ধান, শক্তি নিরাপত্তা, সৌরবিদ্যুৎ, রেলপথের বৈদ্যুতিকীকরণ এবং হাইড্রোজেন প্রযুক্তিতে ভারতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনও দেশের অগ্রগতি শুধু তার হাতে থাকা সম্পদের ওপর নির্ভর করে না; বড় চিন্তা করার ক্ষমতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উচ্চতর লক্ষ্য অর্জনের সংকল্পও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্পদের অভাবে অনেক সময় কোনও দেশ থেমে যায় না, বরং চিন্তার পরিসর সীমিত হয়ে গেলে উন্নতির গতি থমকে যায়। তাই ভারতকে ছোট স্বপ্নে সীমাবদ্ধ না থেকে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে বলেও জানান তিনি।
পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রে ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। এই লক্ষ্যে পাঁচটি নতুন পরমাণু চুল্লির কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি। পরমাণু প্রযুক্তিতে ভারত নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং এই ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনেও সাফল্য এসেছে বলে দাবি করেন মোদি।
গভীর সমুদ্র ও সামুদ্রিক সম্পদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগে ‘নো-গো’ হিসেবে চিহ্নিত দেশের উপকূল ও সমুদ্রের ৯৯ শতাংশ এলাকাকে এখন অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গভীর সমুদ্রের সম্পদ অনুসন্ধানে ভারত আরও এগিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
শক্তি নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে মোদি জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের পরিকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০১৪ সালের আগে দেশে মাত্র ৭০টি শহরে পাইপড গ্যাসের সুবিধা ছিল, গত ১২ বছরে তা বেড়ে ৭০০টি শহরে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রায় ২ কোটি পরিবার পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস পাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সৌরশক্তির ক্ষেত্রেও ভারতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা আগে যেখানে মাত্র ২ গিগাওয়াট ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে ১০৭ গিগাওয়াট হয়েছে। ৫০ লক্ষ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়েছে বলে জানান তিনি।
ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে পরিবারের বিদ্যুতের খরচের বোঝা কমেছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রতিটি পরিবারকে সরকার প্রায় ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা দিচ্ছে।
রেলপথের বৈদ্যুতিকীকরণের ক্ষেত্রেও দ্রুত অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন মোদি। তিনি বলেন, ১৯২৫ সালে রেল বৈদ্যুতিকীকরণ শুরু হলেও ৯০ বছরে মাত্র ৩০ শতাংশ রেলপথ বৈদ্যুতিকীকরণ হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী ১০ বছরে এই হার ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ এবং পরে ১০০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হাইড্রোজেন প্রযুক্তিতেও ভারতের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন সম্প্রতি চালু হয়েছে এবং এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত নিজের জায়গা তৈরি করেছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার বৃহত্তর পরিকল্পনা তুলে ধরা। উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য, প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা, শক্তি নিরাপত্তা এবং দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়নকে এই উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
–আইএনএস





















