নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট (আইএএনএস): রাজনীতিতে মহিলাদের আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সব রাজনৈতিক দলকে একজোট হয়ে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-কে সমর্থন করার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, দেশের নীতি নির্ধারণে মহিলাদের আরও বড় ভূমিকা নিশ্চিত করতে তাঁদের প্রাপ্য রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব দিতে হবে।
পঞ্চায়েত, পুরসভা ও পুরনিগমে মহিলাদের বাড়তে থাকা অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের তৃণমূল স্তরে মহিলা জনপ্রতিনিধিরা বিপুল সংখ্যায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁরা স্থানীয় সমস্যার সমাধান করছেন এবং দক্ষ ও কার্যকর নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে সংসদে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পাশ হওয়ার কথা স্মরণ করেন মোদি। তবে তাঁর দাবি, গত চার দশক ধরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিরোধের কারণে এই স্বপ্ন বারবার বাধার মুখে পড়েছে।
লালকেল্লা থেকে সরাসরি দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে মহিলাদের শক্তি ও সক্ষমতাকে সম্মান জানাতে হবে। রাজ্য বিধানসভা এবং লোকসভায় মা-বোনেদের প্রাপ্য প্রতিনিধিত্ব যত দ্রুত সম্ভব নিশ্চিত করার জন্য সব দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়লে তাঁরা দেশের নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন এবং ভারতের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিলের লক্ষ্য হল ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এর আওতায় মহিলাদের জন্য নির্ধারিত ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা। মূল আইনটি ২০২৩ সালে সংবিধানের ১০৬তম সংশোধনী হিসেবে পাশ হয়েছিল এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তা কার্যকর করার বিষয়টি সামনে এসেছে।
সংবিধান অনুযায়ী সংশোধনী বিলটি পাশ করতে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। এই কারণে বিলটি নিয়ে রাজনৈতিক স্তরে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
মহিলা সংরক্ষণের পাশাপাশি জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন নিয়ে বিতর্কও তীব্র হয়েছে। বিরোধী দল ও কয়েকটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই প্রক্রিয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রীয় ভারসাম্য এবং বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার সময় ও পদ্ধতি এবং প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার প্রভাব নিয়েই মূলত রাজনৈতিক বিতর্ক কেন্দ্রীভূত হয়েছে। বিভিন্ন দল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আসন ও প্রতিনিধিত্বের বণ্টনে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছে।
–আইএনএস



















