আগরতলা, ১৪ আগস্ট: স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তির আবহে দেশজুড়ে যখন তিরঙ্গার আবেগ, তখন স্বাধীনতার ইতিহাসের বেদনাময় অধ্যায় দেশভাগের স্মৃতিও স্মরণ করল খুমুলুঙের টিটিএএডিসি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। শুক্রবার প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজিত হলো ‘দেশভাগের বিভীষিকা স্মরণ দিবস প্রদর্শনী’। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি ও বর্ণাঢ্য তিরঙ্গা র্যালি।
প্রদর্শনীর মাধ্যমে পড়ুয়াদের সামনে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের ভয়াবহ ইতিহাস তুলে ধরা হয়। দেশভাগের সময় ঘরছাড়া মানুষের দুর্দশা, বাস্তুচ্যুতি, স্বজন হারানোর বেদনা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষের আত্মত্যাগের নানা স্মৃতি প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের জনজাতি কল্যাণ, হস্ততাঁত, হস্তশিল্প ও রেশমশিল্প এবং পরিসংখ্যান দফতরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জিরানিয়া মহকুমা জনজাতি কল্যাণ দফতরের মহকুমা আধিকারিক অরজিত দেববর্মা, প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল-ইন-চার্জ সুরজ দেববর্মা, সমাজসেবী বিল্লু জমাতিয়া-সহ শিক্ষক-শিক্ষিকা, পড়ুয়া ও বিশিষ্টজনেরা। ফিতা কেটে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। পরে প্রদর্শনীর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, শিক্ষার লক্ষ্য শুধু নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা নয়, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করাও। জাতি, সম্প্রদায় ও বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা তখনই সার্থক, যখন সেই শিক্ষা সমাজ ও মানুষের কাজে লাগে।
দেশভাগের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাসকে দেশভাগের বেদনা থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। ১৯৪৭ সালে অসংখ্য মানুষকে নিজেদের ভিটেমাটি, পরিচিত পরিবেশ ও প্রিয়জন ছেড়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পাড়ি দিতে হয়েছিল। তাঁদের ত্যাগ ও যন্ত্রণা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন। ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে স্বাধীনতার মূল্যও আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ দিনের কর্মসূচিতে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করতে আয়োজন করা হয় মেধা সম্মাননা পর্বেরও। প্রথম থেকে তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত প্রতিটি বর্ষের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মন্ত্রী। পড়ুয়াদের অভিনন্দন জানিয়ে আগামী দিনে আরও নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু দেশপ্রেমের আবেগ জাগিয়ে তোলা নয়, ইতিহাসের কঠিন অধ্যায়গুলির সঙ্গেও তরুণ প্রজন্মকে পরিচিত করানো। দেশভাগের ভয়াবহতা স্মরণ করার মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী হবে বলেই তাঁদের আশা।
প্রদর্শনী ও সম্মাননা পর্বের শেষে মন্ত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পড়ুয়ারা তিরঙ্গা হাতে র্যালিতে অংশ নেন। খুমুলুঙে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ র্যালি। জাতীয় পতাকা হাতে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করেন। পরে র্যালিটি ফের ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে খুমুলুঙের এই কর্মসূচিতে একই সঙ্গে উঠে আসে ইতিহাসের দুই ছবি। একদিকে হাতে তিরঙ্গা, অন্যদিকে দেশভাগের ক্ষতবিক্ষত স্মৃতি। স্বাধীনতার আনন্দের নেপথ্যে অসংখ্য মানুষের ত্যাগ, অশ্রু ও আত্মবলিদানের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরল টিটিএএডিসি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এই আয়োজন।
























