বেঙ্গালুরু, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস): বিরোধীদের অনুপস্থিতিতে শুক্রবার কর্ণাটক বিধানসভার নতুন স্পিকার নির্বাচিত হলেন কংগ্রেস বিধায়ক জিএস পাটিল। একই দিনে কর্ণাটক বিধান পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন কংগ্রেসের বিধান পরিষদ সদস্য সেলিম আহমেদ। এনডিএ প্রার্থী পিএইচ পুজারকে আট ভোটে হারিয়ে পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।
স্পিকার নির্বাচনে বিজেপি অংশ নেয়নি। কংগ্রেসের দলীয় লেটারহেডে জিএস পাটিলের প্রার্থিতার ঘোষণা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিজেপির অভিযোগ, সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে এবং স্পিকার নির্বাচনকে কার্যত আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার অবশ্য সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষেই সওয়াল করেন। তাঁর দাবি, সাংবিধানিক পদের মর্যাদা কোনওভাবেই নষ্ট করা হয়নি। বরং বিজেপি বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দিচ্ছে।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপির প্রবীণ নেতা আর অশোক নবনির্বাচিত স্পিকার জিএস পাটিলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, স্পিকারের পদ কোনও রাজনৈতিক দলের পদ নয়। স্পিকারের আসনের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য তিনি পাটিলের কাছে আবেদন জানান।
অশোক বলেন, স্পিকারের আসন ন্যায়বিচারের প্রতীক। সেখানে কোনও রাজনৈতিক দলের লেটারহেডের ছায়া নয়, সংবিধানের ছায়া থাকা উচিত। আগামী দিনে বিধানসভার সমস্ত সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, বিধান পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে সেলিম আহমেদ ৩৮টি ভোট পান। এনডিএ প্রার্থী পিএইচ পুজার পান ৩০টি ভোট। ফল ঘোষণার পর পরিষদের বিরোধী দলনেতা চালাভাদি নারায়ণস্বামী সেলিম আহমেদকে অভিনন্দন জানান। ব্যক্তিগতভাবে তাঁরা বন্ধু হলেও রাজনৈতিক ও আদর্শগত প্রশ্নে বিরোধিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
নারায়ণস্বামী নতুন চেয়ারম্যানকে দল, জাতি ও ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করে পরিষদের সমস্ত সদস্যের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সেলিম আহমেদের প্রার্থিতাও কংগ্রেসের দলীয় লেটারহেডে ঘোষণা করা নিয়ে তিনি আপত্তি তোলেন।
চেয়ারম্যান নির্বাচন ঘিরে বিধান পরিষদেও শাসক ও বিরোধী সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। প্রাক্তন চেয়ারম্যান বাসবরাজ হোরাট্টি কী পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করেছিলেন, তা নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তোলে। বিরোধী দলনেতা নারায়ণস্বামী প্রোটেম স্পিকার পুত্তানার কাছে হোরাট্টির পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যার দাবি জানান।
বিজেপি বিধায়ক এন রবিকুমারও প্রশ্ন তোলেন, কংগ্রেস সরকার হোরাট্টিকে পদত্যাগে বাধ্য করে থাকলে তা সাংবিধানিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য। তবে প্রোটেম স্পিকার পুত্তানা জানান, ওই দিনের অধিবেশন কেবল নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্ধারিত ছিল। তাই অন্য কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ নেই।
সেলিম আহমেদ নির্বাচিত হওয়ার পর প্রোটেম স্পিকার পুত্তানা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব তুলে দেন। অনুষ্ঠানে হাউস লিডার তথা মন্ত্রী যাথীন্দ্র সিদ্দারামাইয়া, বিরোধী দলনেতা চালাভাদি নারায়ণস্বামী, কেপিসিসি সভাপতি বি কে হরিপ্রসাদ-সহ অন্যান্য প্রবীণ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিজেপি সদস্য কেশবপ্রসাদ চেয়ারম্যানকে আসনে নিয়ে যাওয়ার সময় কোনও মহিলা নেত্রীকে পাশে না রাখার বিষয়েও আপত্তি জানান। তাঁর দাবি, পুরো ব্যবস্থাটিই পুরুষ-নির্ভর ছিল।
জিএস পাটিল ও সেলিম আহমেদের নির্বাচনের ফলে কর্ণাটক বিধানসভা ও বিধান পরিষদ, দুই কক্ষই নতুন সভাপতিত্বকারী পেল। তবে প্রার্থী বাছাই এবং তা ঘোষণার পদ্ধতি নিয়ে কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রশ্ন অব্যাহত রয়েছে।



















