দেহরাদুন, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস): উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় বিপর্যস্ত সুড়ঙ্গে চলা উদ্ধার ও ত্রাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। শুক্রবার তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্মীয়মাণ টিএইচডিসি সুড়ঙ্গের ভিতরে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে আধিকারিক ও উদ্ধারকারী দলের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, পিপলকোটির একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে জল ও ধসের ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ায় একাধিক শ্রমিক ভিতরে আটকে পড়েন। ঘটনাস্থলে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধারকাজের অগ্রগতি, প্রতিকূলতা এবং ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। পরে আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে ধামি জানান, আটকে পড়া শ্রমিকদের নিরাপদে উদ্ধারের জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অভিযান চলছে। উদ্ধারকাজে যাতে কোনও স্তরেই গাফিলতি না থাকে এবং সমস্ত উপলব্ধ সম্পদ পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করা হয়, সে বিষয়ে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রত্যেক শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
উদ্ধারকাজে এনডিআরএফ, এসডিআরএফ এবং পুলিশ-সহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বয় রেখে কাজ করছে। বৃহস্পতিবার রাতেও সুড়ঙ্গ থেকে বেশ কয়েকজন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছিল।
চামোলির জেলাশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে পড়া ২২ জনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি তিনজনের সন্ধানে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
উদ্ধার হওয়া আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য গোচেশ্বরের জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা তাঁদের চিকিৎসা করছেন।
উল্লেখ্য, টিএইচডিসি-এর বিষ্ণুগাড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টিআরটি সুড়ঙ্গটির দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার। সুড়ঙ্গের প্রায় ১.৫০ কিলোমিটার অংশে ধস নামার পর সেখানে জল ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ে। এর ফলেই এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।



















