নয়াদিল্লি, ১৪ আগস্ট (আইএএনএস): বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বড় সাফল্য হিসেবে দুবাই থেকে কথিত মাদক সম্রাট বীরেন্দ্র সিং বাসোয়াকে ভারতে ফিরিয়ে আনার ঘটনাকে স্বাগত জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে অমিত শাহ বলেন, বিদেশে লুকিয়ে থাকা মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে নরেন্দ্র মোদি সরকার নিরলসভাবে অভিযান চালাচ্ছে এবং তাদের গোটা অপরাধচক্র ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হয়েছে। ন্যাশনাল ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) পলাতক মাদক কারবারি বীরেন্দ্র সিং বাসোয়াকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দুবাই থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার ৪৩১০ নম্বর বিমানে করে বাসোয়াকে ভারতে আনা হয়। প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা মূল্যের মাদক সংক্রান্ত পুনে মামলায় তিনি অভিযুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে এনসিবি রেড কর্নার নোটিশ জারি করেছিল। পরবর্তীতে দুবাইয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
ভারত সরকারের উদ্যোগে তাঁকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে ভারতের চলমান অভিযানে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
বাসোয়াকে প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকা মূল্যের মাদক সংক্রান্ত দিল্লি পুলিশের একটি মামলার প্রধান অভিযুক্ত সন্দীপ ধুনিয়ার ঘনিষ্ঠ বলেও দাবি করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ধুনিয়া দুবাই থেকে পাকিস্তানে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।
অমিত শাহ বলেন, অপরাধী চক্রের বিভিন্ন স্তর অনুসরণ করে ভারতীয় সংস্থাগুলি বাসোয়াকে চিহ্নিত করেছে। তিনি বলেন, উপর থেকে নিচ এবং নিচ থেকে উপর পর্যন্ত অপরাধী নেটওয়ার্কের গতিবিধি অনুসরণ করে তদন্তকারীরা আবারও প্রমাণ করেছেন যে, মাদক পাচারকারীরা বিশ্বের যে প্রান্তেই আত্মগোপন করুক না কেন, ভারতীয় আইনের ‘দীর্ঘ হাত’ থেকে তারা রেহাই পাবে না।
বিদেশে বসে বড় মাপের মাদক পাচারচক্র পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতকদের বিরুদ্ধে এনসিবি এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানের ক্ষেত্রে বাসোয়াকে ভারতে ফিরিয়ে আনার ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন্দ্রের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের লক্ষ্য শুধু ব্যক্তিগত মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করা নয়। এর পাশাপাশি মাদক চক্রকে সাহায্য করা আর্থিক, লজিস্টিক ও অপরাধমূলক পরিকাঠামোও ধ্বংস করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।



















