আগরতলা, ১২ আগস্ট: স্মার্ট মিটার বাতিল, অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহার এবং অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তসহ একাধিক দাবি তুলল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। আগরতলার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারের বিদ্যুৎ নীতি নিয়ে সরব হন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী।
সাংবাদিক সম্মেলনে প্রবীর চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের নামে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, স্মার্ট মিটার স্থাপনের পর বহু গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে স্মার্ট মিটার ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের অবস্থান ও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপির আমলে মিথ্যার চাষ হচ্ছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথকে মিথ্যা প্রচারের জন্য স্বর্ণপদক-পুরস্কার দেওয়া দরকার।” তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতেও অতীতে পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন প্রযুক্তি, এমনকি স্মার্ট মিটার ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন তা সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী করার উদ্দেশ্যে করা হয়।
প্রবীর চক্রবর্তীর অভিযোগ, স্মার্ট মিটারের বিভিন্ন সুবিধার কথা তুলে ধরা হলেও, এর ফলে সাধারণ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বাস্তবে কতটা কমেছে বা বেড়েছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে না। বিদ্যুৎ নিগমের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে স্মার্ট মিটারের সুবিধা প্রচার করা হলেও, গ্রাহকদের অভিযোগের যথাযথ সমাধান হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, কৃষক থেকে শুরু করে সাধারণ পরিবারের কাছে বিদ্যুৎ একটি অত্যাবশ্যক পরিষেবা। অথচ একই ধরনের বিদ্যুৎ ব্যবহার সত্ত্বেও স্মার্ট মিটার বসানোর পর অনেক ক্ষেত্রে বিল কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে। কোথাও আগের মাসে কয়েক হাজার টাকা বিল আসার পর পরের মাসে তার তুলনায় বহুগুণ বেশি বিল এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিন সদস্যের একটি পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, বাড়িতে এসি বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র থাকলেও যদি বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন একই থাকে, তাহলে হঠাৎ করে বিল কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা মিটার রিডিংয়ের সমস্যার কারণে অস্বাভাবিক বিল হয়ে থাকলে তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নিজের বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র। তিনি জানান, এক মাসে অস্বাভাবিক পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল আসার বিষয়টি তিনি নিজেই যাচাই করে দেখছেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বিষয়টির বাস্তবতা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।
তবে প্রযুক্তির বিরোধিতা করা তাঁর উদ্দেশ্য নয় বলেও স্পষ্ট করেন প্রবীর চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করবে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনবে এবং সাধারণ গ্রাহকদের সুবিধা দেবে—এটাই প্রত্যাশা। কিন্তু প্রযুক্তির নামে যদি সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়, তাহলে সেই প্রযুক্তির ব্যবহার ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়, স্মার্ট মিটার স্থাপনের আগে ও পরে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ, বিলের পার্থক্য এবং মিটার রিডিংয়ের নির্ভুলতা প্রকাশ্যে যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করারও দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের এসসি বিভাগের চেয়ারম্যান নিরঞ্জন দাস এবং সদর জেলা কংগ্রেস সভাপতি তন্ময় রায়। সমসাময়িক রাজনৈতিক ও অন্যান্য বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখেন প্রবীর চক্রবর্তী।


















